হিন্দু হওয়ায় পছন্দের বিভাগে পড়তে বাধা!

বিপুল কুমার। বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলায়। গত পনেরো বছর ধরে প্রাইভেট পড়িয়ে আর জাল দিয়ে মাছ ধরে নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রায় ১২হাজার টাকাও সংগ্রহ করেছেন মাছ ধরেই।

উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন থেকেই কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা দেন বিপুল। এতে ‘বি’ ইউনিটের ২য় শিফটে ৩৩৩তম মেধাতালিকায় স্থান করে নেন তিনি। তার পছন্দের বিভাগ ইসলামের ইতিহাস। তবে ওই শিক্ষার্থীর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তি হওয়ার সকল প্রকার যোগ্যতা থাকার পরেও ভর্তি হতে পারছেন না। কেন ভর্তি হতে পারছে না সে কারণ জানা নেই তার! ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হিন্দুধর্মাবলম্বী হওয়ায় তাকে তার পছন্দের বিভাগ দেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ইউনিট সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের বি ইউনিটে তার অপেক্ষমাণ তালিকা ৬৬তম। প্রথমবার ওই শিক্ষার্থী ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হন। পরে ওই শিক্ষার্থী অন্য বিভাগে ভর্তির জন্য মাইগ্রেশন (বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আবেদন) করেন। গত ১১ জানুয়ারি মাইগ্রেশন করা শিক্ষার্থীদের ফলাফল এসমএস মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীকে কোন এসএমস দেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবুও ওই শিক্ষার্থী গত ১২ জানুয়ারি নিজ থেকে মাইগ্রেশনের ভর্তির জন্য আসেন। তিনি ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল উপ-কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জানতে চান, যোগ্যতা থাকা শর্তেও কেন তাকে বিভাগ পরিবর্তনের এসমএম দেওয়া হয়নি? এর কোন সদুত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, তুমি হিন্দু হওয়ায় তোমাকে এসএমস দেওয়া হয়নি।

পরে ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ আবার ওই শিক্ষার্থীর কাছে জানতে চান, ‘তুমি কি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে পড়তে চাও? ওই শিক্ষার্থী উত্তরে হ্যাঁ বলেন। পরবর্তীতে তোমাকে এসএমস করা হবে। কিন্তু পরবর্তীতেও ওই শিক্ষার্থীকে কোন ধরনের এসএমস করা হয়নি। গত দুই দিন ধরে ইউনিট সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করলেও কেউ কোন আশ্বাস বা সমাধান দেননি।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি হিন্দু হওয়ায় আমাকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমার ইচ্ছা ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে পড়ার।

 ‘বি’ ইউনিটের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগামীকাল বিষয়টি নিয়ে ভর্তি সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বসব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল উপ-কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ওইভাবে ওকে বলিনি। ওর ফোন নম্বরটা মিসটেক হয়ে গেছে। আমি ওকে এমনি জিজ্ঞেস করেছি, তুমি কী ইসলামের ইতিহাসে পড়তে পারবা? তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে সে ওই বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।