ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষামূলক যন্ত্র ‘অ্যান্টি রেপ সিকিউরিটি অ্যালার্ম’র প্রচার ও ব্যবহারে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে এ যন্ত্রের সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’র সঙ্গে সংযুক্ত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং বিভিন্ন বয়সী নারীদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত প্রশ্নেও রুল দিয়েছে আদালত।
এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রবিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়।
আদেশে আদালত অ্যান্টি রেপ ডিভাইস’র প্রচার ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। বলা হয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে এই কমিটি ৯৯৯’র সঙ্গে অ্যান্টি রেপ ডিভাইসের সংযুক্তির সম্ভাবনা বিষয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে কমিটি আগামী ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে তা আদালতে দাখিল করবে।
ধর্ষণের ব্যাপকতা রোধ ও এর প্রতিকারে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং চিলড্রেন চ্যারিটি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (সিসিবি) সম্প্রতি হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এম এ হালিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. তৌফিক সাজাওয়ার।
ব্যারিস্টার এম এ হালিম দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘অ্যান্টি রেপড সিকিউরিটি অ্যালার্ম’ এমন একটি ডিভাইস যার মাধ্যমে যে কোনো বয়সের একজন নারী এটিকে হাত ঘড়ির মতো ব্যবহার করতে পারেন। তিনি যখন যেখানে যাবেন এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হলে এই যন্ত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অপরাধীকে অনায়াসে খুঁজে বের করা যাবে। তিনি বলেন, ‘কোনো নারী যখন অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনার সম্মুখীন হন তখন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দেওয়ার মতো যথেষ্ট সময়-সুযোগ পান না। যদি এই ডিভাইসকে ৯৯৯’র সঙ্গে যুক্ত করা যায় তাহলে যে কোনো ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে তা জরুরি সেবার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসবে এবং অপরাধীকে শনাক্ত ও ধরা যাবে অনায়াসে।’
এম এ হালিম বলেন, ‘পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশে এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করে সুফল পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে এখনো এর প্রচার ও ব্যবহার তেমনভাবে শুরু হয়নি। অথচ এটি ব্যবহারে তেমন কোনো জটিলতা নেই। দামও একদম হাতের নাগালে। এসব বিষয় উল্লেখ করে এ রিট আবেদনটি করা হয়। আদালত রুল জারি করেছেন।’
তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইন সচিব, অর্থ সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ইউজিসির চেয়ারম্যানসহ ১২ জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।