দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর হিন্দু ছেলেটির স্বপ্ন পূরণ

দৈনিক দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর পছন্দের বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে বিপুল কুমার। আজ ‘বি’ ইউনিট সমন্বয়কারী থেকে ওই শিক্ষার্থীকে এসএমসের মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তির জন্য বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউনিট সমন্বয়কারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আজ ইউনিট সমন্বয়কারীর সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে তার পছন্দের বিষয়ে ভর্তির জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

রবিবার দৈনিক দেশ রূপান্তরে ‘ হিন্দু হওয়ায় পছন্দের বিষয়ে পড়তে বাধা!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদের বিষয়টি আমলে নিয়ে আজ সংশ্লিষ্ট ইউনিট সমন্বয়কারীর সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে তার পছন্দের বিষয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তির জন্য বলা হয়েছে।

ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে ওই শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রথমবার পছন্দের বিষয়ে ভর্তির সুযোগ না পেলেও এখন ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলাম। এটা শুধুমাত্র সংবাদ প্রকাশের কল্যাণে।’

বিপুল কুমারের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলায়। গত পনেরো বছর ধরে প্রাইভেট পড়িয়ে আর জাল দিয়ে মাছ ধরে নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার প্রায় ১২ হাজার টাকাও সংগ্রহ করেছেন মাছ ধরেই। উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন থেকেই কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা দেন বিপুল। এতে ‘বি’ ইউনিটের ২য় শিফটে ৩৩৩তম মেধাতালিকায় স্থান করে নেন তিনি।

তার পছন্দের বিভাগ ইসলামের ইতিহাস। তবে ওই শিক্ষার্থীর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তি হওয়ার সকল প্রকার যোগ্যতা থাকার পরেও ভর্তি হতে পারছেন না। কেন ভর্তি হতে পারছে না সে কারণ জানা নেই তার! ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হিন্দুধর্মাবলম্বী হওয়ায় তাকে তার পছন্দের বিভাগ দেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ইউনিট সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের বি ইউনিটে তার অপেক্ষমাণ তালিকা ৬৬তম। প্রথমবার ওই শিক্ষার্থী ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হয়। পরে ওই শিক্ষার্থী অন্য বিভাগে ভর্তির জন্য মাইগ্রেশন (বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আবেদন) করে।

গত ১১ জানুয়ারি মাইগ্রেশন করা শিক্ষার্থীদের ফলাফল এসএমএস মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীকে কোনো এসএমএস দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবুও ওই শিক্ষার্থী গত ১২ জানুয়ারি নিজ থেকে মাইগ্রেশনের ভর্তির জন্য আসেন।

পরে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল উপ-কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জানতে চান, যোগ্যতা থাকা শর্তেও কেন তাকে বিভাগ পরিবর্তনের এসএমএস দেওয়া হয়নি? এর কোন সদুত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, ‘তুমি হিন্দু হওয়ায় তোমাকে এসএমএস দেওয়া হয়নি।’

পরে তিনি আবার ওই শিক্ষার্থীর কাছে জানতে চান, ‘তুমি কি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে পড়তে চাও? ওই শিক্ষার্থী উত্তরে হ্যাঁ বলেন। পরবর্তীতে তোমাকে এসএমএস করা হবে। কিন্তু পরবর্তীতেও ওই শিক্ষার্থীকে কোনো ধরনের এসএমএস করা হয়নি। গত দুই দিন ধরে তীর্থের কাকের মতো ক্যাম্পাসে ইউনিট সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করলেও কেউ কোনো আশ্বাস বা সমাধান করেননি।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি হিন্দু হওয়ায় আমাকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমার ইচ্ছা ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে পড়ার। নিজে মাছ ধরে ও টিউশনি করে আমি ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু পছন্দের বিষয়ে এখনো ভর্তি হতে পারেনি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল উপ-কমিটির সদস্য-সচিব অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ওইভাবে ওকে বলেনি। ওর ফোন নম্বরটা মিসটেক হয়ে গেছে। আমি ওকে এমনি জিজ্ঞেস করেছি, তুমি কী ইসলামের ইতিহাসে পড়তে পারবা?? তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে সে ওই বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।’