তালেবানকে ‘ইরানের সমর্থন’ নিয়ে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অব্যাহত উত্তেজনার কারণে আফগানিস্তান দু’দেশের মধ্যে আরেকটি ছায়া যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে।

গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে এমনটাই দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী পত্রিকা ওয়াশিংটন টাইমস।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন সংঘাত তালেবানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তিচুক্তি এবং মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রচেষ্টাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

আফগানিস্তানে ইরানের কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য বিস্তৃতির বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সম্প্রতি সতর্ক করে দিয়েছেন।

সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবানকে তেহরানের সমর্থনের বিষয়টি গোয়েন্দা পরিসরে ভালোভাবেই জানা আছে।

ইতোমধ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি তাদের কিছু হামলার পরিকল্পনা ইরান থেকে নিয়েছিল কিনা গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষকরা তা খতিয়ে দেখছেন।

সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন টাইমস দাবি করেছে, ইরানের মাশহাদ এবং পাকিস্তানের কোয়েটায় অবস্থানরত তালেবান সদস্যদের যোগাযোগে আড়িপেতে এ ধরনের ‘অপারেশনাল কানেকটিভিটি’র বিষয়টি জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাইন-ইলেভেনের পর তালেবানের বিরোধিতা এবং তালেবান-বিরোধী সরকারকে সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের স্বার্থ একই ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

অনেকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহতের জবাবে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং তালেবান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান দুর্বল শান্তি আলোচনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার দ্বৈত উদ্দেশ্যে আফগানিস্তানে তেহরান-পরিকল্পিত উত্তেজনা বাড়তে পারে।

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে সাবেক মার্কিন বিশেষ দূত রিচার্ড ওলসন বলেন, ‘আফগানিস্তান যুক্তরাষ্ট্র-ইরানি সংঘাতের ভেন্যুতে পরিণত হলে তখন মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা কল্পনা করা কঠিন হবে, এটা আবশ্যকীয়ভাবে তালেবানের সঙ্গে যে কোনো ধরনের শান্তি আলোচনাকে খুবই কঠিন করে তুলবে।’