বোরো আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ জেলার ৮টি উপজেলায় পুরোদমে চলছে বোরো চাষের কাজ। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা ক্ষেতে কাজ করছেন দিনের প্রায় পুরোটা সময়েই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ আধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার ১৩টি উপজেলার সবকটিতেই বোরো আবাদ হলেও ভূপ্রাকৃতিক কারণে হাওর অধ্যুষিত ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, তাড়াইল, ভৈরব, কুলিয়ারচর, করিমগঞ্জ, বাজিতপুর এবং নিকলী উপজেলায় সর্বাধিক পরিমাণ বোরো ধান উৎপাদিত হয়। এলাকার অধিবাসীদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এ বোরো ফসল। তাই এখানকার কৃষক নিজেকে উজাড় করে দেন বোরো আবাদে। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনার মধ্যেও কৃষককে ফসল ঘরে না তোলা পর্যন্ত আতঙ্কে থাকতে হয়। আগাম বন্যা আর পাহাড়ি ঢলে প্রায় সময়েই মাঠভর্তি কৃষকের সোনালি ধান তলিয়ে যায়। এত ঝুঁকির মধ্যেও এখন হাওরের মাঠে সরব কৃষকের একটাই চিন্তা, এক খ- জমিও যেন কোনো অবস্থাতেই পতিত না থাকে।
হাওর অঞ্চলের দরিদ্র এবং প্রান্তিক চাষিরা ঋণ ও দাদন নিয়ে যে ফসল ফলান তার সিংহভাগ চলে যায় দায় মেটাতে। ফলে ফসল তোলার মাস দুয়েকের মধ্যেই দরিদ্র, প্রান্তিক চাষি ও কৃষকের গোলা শূন্য হয়ে যায়। শ্রমবিক্রি এবং ধার করে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হয়। তবে কৃষক আশা করছেন, আবহাওয়া যাতে অনুকূল থাকে, তাহলেই ধানের বাম্পার ফলন হবে। তখন ধানের হাসিতে ধারদেনা আর কৃষি উপকরণের সংকট ভুলে হাসতে পারবেন কৃষক।