কামরাঙ্গীরচরে বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রচারণায় দু’দফায় হামলা, আহত ১০

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী সাইদুর রহমান রতনের প্রচারণায় দুই দফায় হামলার ঘটনায় অন্তত ১০ আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও ভাঙচুর করে।

শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে বড়গ্রাম এলাকার ইসলাম চেয়ারম্যান বাড়ির মোড়ে রতনের সমর্থকদের ওপর হামলা হয়। এ সময় হামলাকারীরা নির্বাচনী অফিসের বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসহ আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা এসে আগুন নিভিয়ে ফেলেন।

সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরের কাছে রতন অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের সামনেই কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ হোসেনের লোকজন হামলা চালিয়ে অফিসের টিভি, এসি, সোফা, মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। এছাড়া আমার ব্যক্তিগত ল্যাপটপটি নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে পোস্টার লাগানোর সময় আমার কর্মীদের ওপর হামলা হয়। এতে ১০ জন কর্মী আহত হন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশকে জানানো হয়।

ওই ঘটনার পর আজ জুমার নামাজের পর তার রসুলপুরে নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়ার কথা ছিল। তার আগে থেকেই খবর পান, হোসেনের সমর্থকরা অস্ত্র, ইটপাটকেল ও চাপাতি নিয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করছেন। বিষয়টি থানা-পুলিশকে অবহিত করার পর কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি আমাকে ওই এলাকায় না গিয়ে খালপাড় পর্যন্ত প্রচারণার নির্দেশনা দেন। তার কথামতো ইসলাম চেয়ারম্যান বাড়ির মোড় পর্যন্ত যাওয়ার পরপরই অতর্কিত হামলা চালায় হোসেনের লোকজন।

এ বিষয়ে জানতে কামরাঙ্গীরচর থানার ওসির মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।

পুলিশের লালবাগ জোনের উপ-কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।

তিনি বলেন, দুপক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছেন। আমরা সবাইকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ প্রচারণায় অংশ গ্রহণের কথা বলেছি। সেই অনুযায়ী কাজ করছি।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা জানান, ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের চারজন  বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন- কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও  থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান রতন, কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রচার সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ও মহিলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিরিন। জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনে সাইদুর রহমান রতন অনেক এগিয়ে রয়েছেন। বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না কাউন্সিলর হোসেন। তাই তার নির্বাচনী কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরির জন্য দফায় দফায় হামলা চালিয়ে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করছেন। 

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।