ফুটবলের স্কোর সবসময় সত্যি কথা বলে না। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ফাইনালের ক্ষেত্রেও তা বলছে না। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল ফাইনালে ৩-১ গোলে বুরুন্ডিকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের শিরোপা জিতেছে ফিলিস্তিন। স্কোর দেখে যদি কেউ ভেবে নেন ফাইনাল ছিল একপক্ষীয় তাহলে ভুল করবেন। বাস্তবতা হলো বুরুন্ডি ভালো খেললেও জিতেছে ফিলিস্তিন। প্রতিপক্ষে গোলে মাত্র তিনটি শট নিয়ে তিনবারই লক্ষ্যভেদ করেছে। দিনের শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা নিয়ে শেষ হাসিও হেসেছে তারা।
মজার ব্যপার হলো, ফিলিস্তিন তিনটি গোলই করেছে প্রথমার্ধে। ২৬ মিনিটের মধ্যেই তারা ৩-০-তে লিড নিয়েছিল। প্রথমার্ধের ৩ মিনিটে সালেম খালেদ প্রথম গোল করেন। এরপর ১০ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয় গোল করেন সামেহ মারাবা। আর ২৬ মিনিটের মাথায় লেখ খারৌবের গোলে ৩-০-তে এগিয়ে যায় ফিলিস্তিন। প্রথমার্ধে গোল পরিশোধের সুযোগ পেয়েছিল বুরুন্ডিও। তবে তারা লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ফাইনালে একমাত্র গোলটি করেছে তারা বিরতির পর। দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিটে বুরুন্ডির হয়ে একমাত্র গোলটি করেন নিকুমান আসমান। আরও কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল তারা। কিন্তু ভাগ্য সহায়তা না করায় তাতে গোলের দেখা মেলেনি। ফিলিস্তিনির গোল বরাবর ১২টি শট নিয়েছিল তারা। সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল তারা। অন্যদিকে সেমিফাইনালে সিশেসলকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ফিলিস্তিন। ফেভারিট হিসেবেই ফাইনালে খেলতে নেমেছিল তারা। ফিফা র্যাংকিংয়ে ১০৬ নম্বর অবস্থানে ফিলিস্তিনিরা। আর বুরুন্ডির অবস্থান ১৫১। খেলায় অবশ্য বেশি পার্থক্য মনে হয়নি। বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়েছিল বুরুন্ডিই। শতকরা ৬০ ভাগ বলের দখল রেখেছিল তারা। ৪০ ভাগ বলের দখল ছিল ফিলিস্তিনের পায়ে। কিন্তু বল দখলে পিছিয়ে থাকলে কী হবে, চ্যাম্পিয়ন হয়ে মাঠ ছেড়ে তারা প্রমাণ করেছে ফুটবল শেষ পর্যন্ত গোলের খেলা। যারা গোল করে তারাই জেতে।
বাংলাদেশসহ মোট ছয় দল নিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল এবারের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ। গতকাল সেটডিয়ামে গিয়ে ফাইনালটি উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে তিনি ট্রফি তুলে দেন। স্বাগতিক বাংলাদেশ সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল। ফেভারিট হিসেবে খেলতে আসা ফিলিস্তিন অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।