কৃষক লীগ নেতার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় সরকারি খরচে বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। টাকা দিলেই মিলবে ঘর এমন আশা করে গোদাগাড়ী ইউনিয়নের কেশবপুর, পোহাপুর, শরলা, তাজেন্দ্রপুর ও মোল্লাপাড়া গ্রামের অসহায় অতিদরিদ্র মানুষ টাকা দিয়েও ঘর না পেয়ে এখন ক্ষুব্ধ।

স্থানীয়রা বলছেন, ঘর পাবেন এ আশায় গোদাগাড়ী ইউনিয়ন কৃষক লীগ সভাপতি মেসের আলীকে তারা টাকা দিয়েছেন। তার সঙ্গে ছিলেন ৪ নম্বর ওয়ার্ড  কৃষক লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে ১০-১৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়। ৫০-৬০টি পরিবারের কাছ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে টাকা আদায় করা হলেও অসহায় পরিবারগুলোর ভাগ্যে ঘর জোটেনি। দরিদ্র এসব পরিবার এ টাকা দিতে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। কেউ কেউ গরু-ছাগলও বিক্রি করেছেন। 

জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্পের আওতায় তৃণমূলের অসহায় অতিদরিদ্র পরিবারের জন্য সরকার বিনা মূল্যে ঘর তৈরি করে দিচ্ছে। আর তা পুঁজি করে কৃষক লীগ নেতা মেসের আলী ঘর তৈরি করে দেওয়ার নাম করে পরিবারপ্রতি ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা আদায় করেন।

কেশবপুর গ্রামের খাইরুন নাহার বলেন, ‘ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আমাকে ঘর দেওয়ার কথা বলে ১০ হাজার টাকা নিয়েছে। আমি এখন পর্যন্ত  ঘর কিংবা টাকা কোনোটাই পাইনি।’ একই গ্রামের বিধবা কিসমত আরা বলেন, ‘ঘর দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়ে আমাদের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলছে। ১ বছর পার হলেও আমরা ঘর পাইনি। আবার টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিতে থাকে এই নেতা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মেসের আলী বলেন, ‘সরকারিভাবে ঘর তৈরি করে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলেছি। পরে মন্ত্রণালয়ের একজন সচিবকে কুরিয়ারের মাধ্যমে টাকা দিয়েছি। কিন্তু এরপর সচিব আমার ফোন রিসিভ না করায় সাধারণ মানুষকে ঘর তৈরি করে দিতে পারিনি।’

৪ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি কোনো টাকা আত্মসাৎ করেননি। মেসের আলীর কথামতো তিনি কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করে তাকে দিয়েছেন।