ইবিতে রেফারিকে ধাওয়া দিয়ে মারধর করল খেলোয়াড়রা!

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতায় ফাইনাল খেলায় রেফারিকে ধাওয়া দিয়ে খেলোয়াড়রা মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের ফুটবল মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

সিদ্ধান্ত পছন্দ না হওয়ায় ইংরেজি বিভাগের খেলোয়াড়রা রেফারির ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের ফুটবল মাঠে বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা শুরু হয়। খেলায় ইংরেজি ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ অংশ নেয়।

ম্যাচের একপর্যায়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ পেনাল্টি পায়। এই সিদ্ধান্ত না মেনে রেফারির ওপর চড়াও হয় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সিদ্ধান্তে রেফারি পরিবর্তন করে খেলা শুরু হয়। পরে পেনাল্টিতে গোল দেয় ইতিহাস বিভাগ।

এরপরে আবারও খেলোয়াড়দের মধ্যে হট্টগোল হলে ইংরেজি বিভাগে খেলোয়াড়রা ইতিহাসকে বিজয়ী ঘোষণা করে মাঠ ছাড়ে।

এদিকে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সময় মাঠের পাশে থাকা রেফারি রবিউল ইসলামকে ধাওয়া দেয় ইংরেজি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মিজান, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শুভ এবং ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের নিশাত। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে গিয়ে তারা রেফারিকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় রেফারি গুরুতর আহত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় রেফারিকে ঝিনাইদহ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ।

এদিকে রেফারিকে মারধরের কারণে ইতিহাস বিভাগের খেলোয়াড়রা ইংরেজি বিভাগের খেলোয়াড়দের মারধর করেছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত রেফারি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। খেলার মধ্যে হট্টগোল হওয়ার সময়েই প্রশাসনের উচিত ছিল আমাদের নিরাপত্তা দেওয়া।’

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ বলেন, ‘রেফারিকে মারধর করা হয়নি। খেলোয়াড়রা তাকে তাড়া দিয়েছে। পরে প্রশাসন ও সকলের সহযোগিতায় তাদের ঝিনাইদহ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ 

এ বিষয়ে ক্রীড়া বিভাগের পরিচালক ড. সোহেল বলেন, ‘এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমরা শৃঙ্খলা কমিটির সঙ্গে বসেছি। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে।’