‘মিডিয়ায় বক্তব্য দেওয়ায়’ হাবিপ্রবির জনসংযোগ পরিচালককে হত্যার হুমকি

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা শাখার পরিচালক সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দেওয়ায় লাঞ্ছিত করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের কয়েকজন শিক্ষক নেতা। এমনটাই দাবি করে মৌখিক অভিযোগ করেছেন প্রফেসর ড. শ্রীপতি সিকদার।

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. শ্রীপতি সিকদার সাংবাদিকদের কাছে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।

সেই বক্তব্যের জের ধরেই গত সোমবার (২৭ জানুয়ারি) একাডেমিক ভবনে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের কয়েকজন শিক্ষক তার কক্ষে গিয়ে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেল ৪টার দিকে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের কয়েকজন শিক্ষক এসে অতর্কিতভাবে প্রফেসর ড. শ্রীপতি সিকদারকে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।

প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের যারা এসেছিলেন তারা হলেন- গণিত বিভাগের মামুনুর রশীদ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ড. মোমিনুল ইসলাম, সোসিওলজি বিভাগের হাসান জামিল জেনিথ, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের কৃষ্ণ চন্দ্র রায়। এমন সময় পরিস্থিতি উত্তাপ্ত হলে পাশের ল্যাব থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে ড. শ্রীপতি সিকদারকে উদ্ধার করেন।

অভিযোগ আছে, গত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের বেশ কয়েকজন শিক্ষক বিএনপি সমর্থিত সাদা দলের হয়ে কাজ করতেন। বর্তমানে তারাই আওয়ামীপন্থী প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের নেতা সেজেছেন।

প্রকাশনা শাখার পরিচালককে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মামুনুর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা জনসংযোগ ও প্রকাশনা শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. শ্রীপতি স্যারের রুমে কয়েকজন শিক্ষক গিয়েছিলাম। তিনি আমাদের সম্মানিত সিনিয়র শিক্ষক। আমরা তার কাছে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের দুজন শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্টের বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম এবং সম্মানপূর্বক কথা বলেছি। কিন্তু তিনি বলেন, আমি বেয়াদের সঙ্গে কথা বলব না। পরে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। আমরা লাঞ্ছিত কিংবা প্রাণনাশের হুমকি দেইনি। কথা বলতে না চাইলে আমরা সেখান থেকে চলে এসেছি।’

এ বিষয়ে অভিযোগকারী ড. শ্রীপতি সিকদার বলেন, ‘আমি শুধুমাত্র প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডকুমেন্টসহ সঠিক তথ্য উপাত্ত মিডিয়ার কাছে উপস্থাপন করেছি। কিন্তু এটি নিয়ে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের কয়েকজন শিক্ষক আমার সঙ্গে যে আচরণ করছে তা আমি কল্পনাও করতে পারি না। আমি লজ্জিত! সত্য কথা বলতে গিয়ে এ রকম হামলার শিকার হতে হবে ভাবিনি। সত্য কথা বলাতে আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের কয়েকজন শিক্ষক।’

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ফজলুল হক বলেন, ‘আমি বিষয়টি কয়েকজন শিক্ষার্থী ও প্রকাশনা শাখার পরিচালক শ্রীপতি’র কাছে শুনেছি। প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামে যারা আছেন তাদের বেশির ভাগই বিশ্ববিদ্যালয়কে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি করার জন্যই সর্বদাই এসব করে থাকেন। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সংগঠন থেকেও উপাচার্য বরাবর এ বিষয়ে বিচার চেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করব।’