‘আজ আমরা অল্প টাকার জুয়া খেলেছি, আমরা তো চুনোপুঁটি’

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে জুয়ার আসর থেকে রবিবার রাতে ৫ বহিরাগতসহ ১৯ জনকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আটক কর্মচারীদের বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন শেকৃবি উপ-উপাচার্য ও প্রক্টর।

জানা গেছে, রবিবার রাত সাড়ে ১১টায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সেকেন্দার আলীর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি নিরাপত্তা কর্মচারীদের নিয়ে কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কক্ষে অভিযান চালায়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ১৪ জন কর্মচারীসহ ৫ জন বহিরাগতকে জুয়ার আসর থেকে আটক করেন।

আটকরা হলেন- প্যাথলজি বিভাগের (এএসভিএম) ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পলাশ কান্তি মন্ডল, অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সিনিয়র অ্যাটেনডেন্ট মো. নবীর, নিরাপত্তা শাখার গার্ড জাহাঙ্গীর, স্টেট অফিসের ঝাড়ুদার জুয়েল রানা, শ্রমিক মো. আরিফ হোসেন, কীটতত্ত্ব বিভাগের শ্রমিক মো. স্বপন, শিক্ষক সমিতির গার্ড দেলোয়ার হোসেন, শেরেবাংলা হলের ডাইনিং ম্যানেজার কবির হোসেন, অ্যানিমেল নিউট্রিশন বিভাগের ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট আশরাফুল, নিরাপত্তা শাখার গার্ড ইদ্রিস মৃধা, নিরাপত্তা শাখার গার্ড মো. ওসমান গনি, দোয়েল ভবনের লিফটম্যান মো. মাসুদ রানা, শ্রমিক মো. সোহেল হোসেন ও শেরে বাংলা হলের ক্যান্টিনবয় রুবেল হোসেন।

আটক বহিরাগতরা হলেন- উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের শ্রমিক মানিকের ভাই চাঁন মিয়া, মিরপুরের সবজি ব্যবসায়ী মো. পলাশ, পাকা মার্কেটে রিকশা ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন, আসাদুল ইসলাম ও আদাবর থানার ঠিকাদার ব্যবসায়ী সারোয়ার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফরহাদ হোসাইন জানান, সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ও বহিরাগতরা মিলে সমিতির কার্যালয়ে জুয়া খেলছে। এ সময় কিছু টাকাসহ জুয়া খেলার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

জুয়ার আসর থেকে আটক মো. আরিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে রবিবার রাতে বলেন, আজ আমরা এখানে অল্প টাকার জুয়া খেলেছি। আমরা তো চুনোপুঁটি।

তিনি মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট মোসলেমকে জুয়ার আসরের রাঘব বোয়াল আখ্যা দিয়ে বলেন, এখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার জুয়া চলে। মোসলেম দেড় লাখ টাকা নিয়ে একটু আগে চলে গেছে। কিন্তু সে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

জানা গেছে, মো. মোসলেম পূর্বেও বিভিন্ন অভিযোগে যুক্ত থাকলেও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। মোসলেম বিশ^বিদ্যালয় এলাকার মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে মোসলেমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সেকেন্দার আলী জানান, জুয়ার আসর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীসহ ৫ বহিরাগতকে আটক করা হয়েছে। তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়কে এ ব্যাপারে অবহিত করে তদন্ত সাপেক্ষে কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেরে বাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সী জানান, আটকদের কোর্টে চালান করা হয়েছে।