মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নের সাফুল্লি গ্রামের বিল্লাল মিয়ার সেই দুই টন ওজনের ষাঁড় ‘সিনবাদের’ মাংস ‘ভাগা’ হিসেবে বিক্রি করা হবে।
আগামী শুক্রবার ‘সিনবাদকে’ জবাই করে বিক্রি করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ও ইউটিউবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল ‘সিনবাদ’ নামের ষাঁড়টি। গত দুই বছর ধরে ঈদুল আজহার কোরবানীর হাটে বিক্রির উপযোগী করলেও উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় অবিক্রীত ছিল ‘সিনবাদ’।
গত বছরের কোরবানীর হাটের সময় ষাঁড়টির ওজন ছিল ৫৪ মণ। এই ‘সিনবাদই’ দেশের সবচেয়ে বেশি ওজনের ষাঁড় ছিল বলে জানিয়েছিল সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস।
‘সিনবাদের’ মালিক বিল্লাল মিয়া বলেন, সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে পরম যত্নে লালন-পালন করেছিলাম এ ষাঁড়টিকে। কাঁচা ঘাস, গমের ভুসি, শুকনা খড়, ভুট্টা, ধান ও গম ভাঙা, ছোলা, চিড়া, আখের গুড়, মালটা, কলা, পেয়ারা, মিষ্টি লাউ খাওয়ানো হতো। কিন্তু গত বছর ঈদে বিক্রি না করতে পেরে লোকসানে পড়ে খাবার দাবার কমিয়ে দিই।
খামারি বিল্লাল আরও বলেন, আমি আমার সন্তানদের মতো মমতা দিয়ে ‘সিনবাদকে’ লালন পালন করেছি। ২০১৮ সালের ঈদুল আজহার আগে ওজন ছিল ৪০ মণ। প্রচুর ক্রেতা আসলেও উপযুক্ত দাম না পাওয়াতে বিক্রি করিনি। গত ২০১৯ সালের ঈদের হাটে ওজন ছিল ৫৪ মণ। কিন্তু হাজার হাজার ফোন পেলেও উপযুক্ত দাম না পেয়ে বিক্রি করতে পারিনি।
তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত নিয়েছি এটিকে আগামী শুক্রবার জবাই করে বিক্রি করব। দরগ্রাম ইউনিয়নের সাফুল্লি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সকাল ৭টার দিকে ‘সিনবাদকে’ জবাই করব। ভাগা করে বিক্রি করব। দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ১০ হাজার ও ৫ হাজার টাকায় ভাগা বিক্রি করব।
‘সিনবাদের’ মালিক জানান, যারা ভাগা কিনবে তাদের জন্য সকালে খাসির কাচ্চি দিয়ে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হবে। বসার জন্য শত শত চেয়ারের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, ১০৫টি ভাগ করা হবে। মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ৬০টি ভাগা বিক্রি হয়ে গেছে।
যদি কোনো ব্যক্তি এ ষাঁড়ের মাংস কিনতে চান, খামারি মালিক বিল্লাল মিয়ার মোবাইল নম্বরে (০১৭২৬-৬২২৫৭৩) যোগাযোগ করতে পারেন।
সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. সেলিম জাহান বলেন, ‘সিনবাদ’ ষাঁড়টি হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের। ঈদুল আজহার সময় উচ্চতা ছিল ৬ ফিট ৭ ইঞ্চি। বয়স ৪ বছর ৭ মাস। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে লালন পালন করা হয়েছে। আমরা ধারণা করছি, ৫৪ মন ওজনের ষাঁড়টি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ওজনের ষাঁড়। কিন্তু ঈদের পর এর ওজন অনেক কমে গেছে।’
তিনি বলেন, খামারি আমাকে বলে গেছেন ষাঁড়টি শুক্রবার জবাই করে মাংস বিক্রি করবেন। এত বড় ওজনের ষাঁড়টি ঈদের হাটে বিক্রি করতে না পারায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছেন। মাংস বিক্রি করতে পারলে লাভ না হলেও লগ্নিকৃত টাকা ফেরত আসতে পারে।