ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রার্থীদের প্রচারণা কার্যক্রম পরিবেশ নষ্টের পাশাপাশি বাড়িয়েছে জন দুর্ভোগ। প্রার্থীরা নির্বাচনী ইশতেহারে ফুটপাতগুলোকে অবৈধ দখলমুক্ত করাসহ পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রচারকাজে প্রতিশ্রুতির বিপরীত চিত্রই দেখা গেছে।
সরেজমিনে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ দুই সিটিতেই দেখা গেছে প্রায় একই চিত্র। যত্রতত্র ফুটপাত দখল করে তৈরি করা হয়েছে নির্বাচনী ক্যাম্প। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। এছাড়া, বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিতর্কিত পলিথিনের পোস্টারে ছেয়ে গেছে নগরী। এ ছাড়া, সারা দিন-রাত মাইক, লাউড স্পিকারে নির্বাচনী গান, প্রচারণায় ভয়াবহ শব্দদূষণের শিকার হচ্ছেন নাগরিকরা।
নির্বাচন কমিশন থেকে বেঁধে দেওয়া নিয়মের তোয়াক্কা না করে এভাবেই প্রচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য নগর প্রতিনিধিরা। ফলে জনমনে যেমনি বাড়ছে অসন্তোষ, বাড়ছে নতুন বিতর্ক। নগরবাসীদের অনেকে বলছেন প্রতিনিধিদের হাতেই যখন নগরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়, তখন আমরা হতাশ হই।
রাজধানীর ধানমন্ডির গ্রীন রোডের ফুটপাত দখল করে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প ব্যস্ত রাস্তায় জনগণের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। একদিকে সরু রাস্তায় গাড়ি আটকে আছে জ্যামে, অন্যদিকে ফুটপাত দখল করে নির্বাচনী ক্যাম্প করায় পথচারীরাও হাঁটতে পারছেন না।
আব্দুল্লাহ আল মারুফ নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, একদিকে রাস্তায় গাড়ি নড়ছে না জ্যামে। অন্যদিকে ফুটপাত দখল করেই প্রচারণা। আমাদের জনগণের জন্যই যদি হয় এ আয়োজন তাহলে আমার প্রশ্ন, এটা জনগণের দুর্ভোগ ছাড়া কিইবা বয়ে আনছে?
মাওফুজা বেগম এক স্কুলশিক্ষক বলেন, নগরজুড়ে যখন নানা সমস্যা, ঠিক তখন সিটি নির্বাচন এনেছে নতুন মাত্রা। বায়ুদূষণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শব্দ দূষণ। এখন আবার দেখছি ফুটপাতগুলোও তাদের দখলে।
ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ক্যাম্প স্থাপনের কারণ জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা কোনো ফুটবল কিংবা রাস্তা দখল করে ক্যাম্প করছি না। নির্বাচন কমিশন থেকে নির্ধারিত নিয়ম মোতাবেক কাজ করছি। নির্বাচনে জনগণের সাড়া পাচ্ছি। আাশা করি গতবারের মতো এবারও মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করবে।
রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা ২২ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায় ক্যাম্পগুলো করা হয়েছে রাস্তার ওপর। এতে রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মো. জিন্নাত আলী।
তার কাছে সড়ক দখল করে নির্বাচনী ক্যাম্প করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনী আমেজ বইছে। আমরা জনগণের জন্য রাজনীতি করি, জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হোক এমন কাজ থেকে বিরত আছি।