তিন দিনব্যাপী পঞ্চদশ অ্যাসকড সম্মেলন শুরু

ঢাকায় তিন দিনব্যাপী ডায়রিয়া ও পুষ্টি বিষয়ক পঞ্চদশ এশীয় সম্মেলন (অ্যাসকড) শুরু হয়েছে। সম্মেলনে ১৮ টি দেশ থেকে ৪৫০ জন গবেষক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, নীতিনির্ধারক এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন কর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে সোমবার সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রধান অতিথি হিসেবে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আইসিডিডিআরবি এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

সম্মেলনের উদ্বোধন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, পঞ্চদশ অ্যাসকডের ভেন্যু হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নেওয়ায় আয়োজকদের ধন্যবাদ। এই সম্মেলনের আলাপ-আলোচনা ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক লক্ষ্য এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে।

আইসিডিডিআরবির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ও অ্যাসকডের সভাপতি ড. ফেরদৌসী কাদরী সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, লক্ষ লক্ষ মানুষ যেসব বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে তা সমাধানের উদ্দেশ্যে জ্ঞান লাভ করা, জ্ঞান বিনিময় করা এবং গবেষণা, উদ্ভাবন ও কৌশলসমূহ আলোচনা ও মূল্যায়ন করার এক অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করেছে অ্যাসকড।

অনুষ্ঠানে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ-এর প্রাক্তন মহাপরিচালক অধ্যাপক নির্মল কে গাঙ্গুলি অ্যাসকড-এর পটভূমি সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া, এতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের পক্ষ থেকে সুইডেনের ইউনিভার্সিটি অব গোথেনবার্গ-এর অধ্যাপক ইয়ান হোম গ্রেন এবং বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক (ডা.) আবুল কালাম আজাদ মূল্যবান বক্তব্য রাখেন।

আইসিডিডিআরবির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অধ্যাপক জন ডি ক্লেমেন্স বলেন, ১৯৬০ সালে কলেরা রিসার্চ ল্যাবরেটরি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে কালক্রমে আইসিডিডিআরবি একটি বিশ্ব বিখ্যাত জনস্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এবং এটি প্রতিনিয়ত বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান ও জীবন রক্ষায় অবদান রেখে এসেছে।

তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা আন্ত্রিক রোগ মোকাবিলার উদ্দেশ্যে নতুন গবেষণা উপস্থাপন, বিজ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থাপন এবং একটি সুস্পষ্ট আলোচ্যসূচি প্রণয়ন করবেন।

আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে থাকবে রোগের বৈশ্বিক ব্যাপকতা; অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিরোধী হয়ে ওঠা; রোগনির্ণয় ও নজরদারি ব্যবস্থার জন্য সর্বোত্তম অনুশীলন; পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যকর ব্যবস্থা সংক্রান্ত অভ্যাস এবং কলেরা ও নতুন টাইফয়েড কনজুগেইট টিকার উৎপাদনে অগ্রগতিসহ রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত কৌশল।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালে ডায়রিয়া শিশুমৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিলে মুখে খাওয়ার স্যালাইনের কার্যকারিতা তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো এই সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়েছিল।