পহেলা ফেব্রম্নয়ারির ভোটে নৌকার বিজয় দিয়ে মুজিববর্ষ উদযাপন করবেন বলে আশা করছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারের শেষদিনে ভাটারার নতুন রাস্তা এলাকায় এক পথসভায় তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আতিকুল বলেন, যে জাতির পিতা দিয়েছে লাল-সবুজ পতাকা, দিয়েছে স্বাধীনতা, আসুন পহেলা ফেব্রম্নয়ারিতে সেই জাতির পিতার নৌকা প্রতীককে বিজয়ের সর্বাত্মক চেষ্টা করি। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের ভোটটি অনেক মূল্যবান। একটি ভোট পরিবর্তন করতে পারে, একটি ভোট উন্নয়নের ছোঁয়া দিতে পারে। সেই ভোটটি আপনাদের কাছে আছে। আপনারা ভোটকে অবহেলা করবেন না।
এদিন বিকেলে ভাটারা থানার ৩৯ ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন আতিকুল। ডিএনসিসিতে যুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে সাবেক ভাটারা ইউনিয়নের এই ওয়ার্ড দুটিও রয়েছে। বাড্ডা-কুড়িল সড়কের একপাশে গুলশান এবং অন্যপাশে ভাটারার এই ওয়ার্ডগুলোর অবস্থান। অবস্থান পাশাপাশি হলেও উন্নয়নের দিক থেকে দুই এলাকার চিত্র আকাশ-পাতাল। সিটি করপোরেশনে যুক্ত হলেও গত এক বছরে তেমন কোনো পরিবর্তনই হয়নি।
গত নয় মাস মেয়র থাকার তেমন কিছু করতে পারেননি স্বীকার করে বলেছেন, এবার নির্বাচিত হলে ছয় মাসের মাসের মধ্যেই উন্নয়ন কাজ শুরু করবেন। আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ওপাশের গুলশানের সঙ্গে ভাটারার বৈষম্য কমিয়ে আনবেন এবং আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলবেন।
ওয়ার্ড দুটির দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে আতিকুল নিজেই বলেন, ‘ওয়ার্ড দুটির অলিতেগলিতে একটু বৃষ্টি হলেই বর্ষার পানি জমে যায়। রাস্তায় চলাচল করা যায় না। শীতকালেই চলাচল করা যায় না, বর্ষাকাল তো দূরের কথা। পশ্চিম দিক (গুলশান) আর পূর্ব দিক অনেক বৈষম্য। পশ্চিম দিকে বৃষ্টি হলে পানি জমে না।’
তিনি বলেন, ‘আগামী এক তারিখ নৌকায় ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করালে আমি কথা দিচ্ছি, আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই এলাকার উন্নয়ন কাজ শুরু হয়ে যাবে। গুলশান-বনানীর মতো এই এলাকার রাস্তাঘাট সুন্দর হবে। রাস্তা প্রশস্ত হবে, ফুটপাত হবে, ড্রেন হবে, লাইট হবে। যেসব এলাকায় খেলার মাঠ নাই, পার্ক নাই, কমিউনিটি সেন্টার নাই, কবরস্থান নাই, সেগুলোরও ডিজাইন হয়ে গেছে। শুধু অপেক্ষায় আছে।’
নতুন ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়নের জন্য ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি ফাইল প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, নৌকার বিজয় হলে বিজয় হবে নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আর মাত্র একটি দিন বাকি। আল্লাহকে হাজিরনাজির জেনে সবাই প্রতিজ্ঞা করুন, প্রত্যেকে দুইশ করে ভোটার নিয়ে আসবেন। সকালবেলা নৌকায় ভোট দিয়ে বিকেলবেলা নৌকার জয়ের মিছিল করব আমরা ইনশাআল্লাহ।’
এক প্রশ্নের জবাবে আতিকুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘যত বাধাই আসুক না কেন, আমরা মানসিকভাবে তৈরি আছি। নৌকার বিপুল জয় হবে দেখেই আমাদের প্রতিপক্ষরা অনেক ধরনের খেলা খেলতে চাচ্ছে। আমরা শুনেছি তারা অনেক বহিরাগতকে ঢাকায় আনার চেষ্টা করছে। আমি আওয়ামী লীগসহ সব অঙ্গসংগঠন ও ঢাকার মানুষকে অনুরোধ করব, আপনারা ধৈর্য ধারণ করুন। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটদান করবেন। নির্বাচনে খুশির আমেজ সবাই বজায় রাখবেন।
পথসভা শেষে আতিকুল ইসলাম প্রথমে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড ও পরে ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। পথসভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএ মান্নান কচি, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বাছেক, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঢালি এবং সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী মাহমুদা বেগম।