করোনোভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কেন্দ্র চীনের উহান শহরের পরিস্থিতি যে কত ভয়াবহ সেটার প্রমাণ মিলল বার্তা সংস্থা এএফপি’র একটি ছবিতে।
ছবিতে দেখা যায়, শহরটির গ্রাউন্ড জিরো-তে ফুটপাতে প্লাস্টিকের ব্যাগ হাতে মাস্ক পরা এক বৃদ্ধের মরদেহ পড়ে আছে।
শিল্পনগরী উহান এক কোটি ১০ লাখ অধিবাসীর শহর। অথচ ফুটপাতে পথচারীর সংখ্যা হাতেগোনা। ভয়ে মরদেহের কাছে কেউ ঘেঁষতে চাচ্ছে না।
প্রত্যক্ষদর্শী এএফপি’র সাংবাদিক হেক্টর রেটামল আরও বলেন, একটি জরুরি পরিষেবার গাড়ি আসার আগ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহটি এভাবে পড়েছিল। পরে সুরক্ষামূলক জামা পরিহিত চিকিৎসাকর্মীরা মরদেহটি গাড়িতে তুলে নেয়।
বন্ধ ফার্নিচার দোকানের সামনের ফুটপাতে চিৎ হয়ে পড়েছিল মরদেহটি। চিকিৎসাসেবার বিশেষ জামা পরিহিত হাসপাতালকর্মীরা একটি নীল কম্বল জড়িয়ে আলতো করে মরদেহটি গাড়িতে তুলে নেয়।
চীনে করোনাভাইরাসে বৃহস্পতিবার নাগাদ মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৬৯২ জন।
এদিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবায় দুর্বল দেশগুলোতেও প্রাণঘাতী এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে ১৮টি দেশে ৯৮ জন করানোভাইরাসের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।
করোনাভাইরাস শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সংক্রমণ। এটি সংস্পর্শে আসা লোকজনের মধ্যেও সংক্রমিত হয়। এই রোগের কোনো প্রতিষেধক এবং ভ্যাকসিন নেই। আক্রান্তদের মধ্যে যাদের হালকা লক্ষণ থাকে, তারা সেরে উঠতে পারেন।
তবে এটি কঠিন শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সংক্রমণ সৃষ্টি করলে মৃত্যু হতে পারে। দেখা গেছে, মৃতদের অধিকাংশই বয়স্ক যাদের আগে থেকেই শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত বা অন্যান্য জটিলতা ছিল।