ভোটের আগের রাতে একাধিক স্থানে সংঘর্ষ, গুলি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগের রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, গুলি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতের এসব ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনে যেসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হচ্ছে তার বেশির ভাগ ওয়ার্ডেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে দলীয় প্রার্থীর বিরোধ রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মুমিনুল হক সাঈদ এবং তার স্ত্রী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ফারহানা আহমেদ বৈশাখীর লোকজনের সঙ্গে আরামবাগ এলাকায় সংঘর্ষ হয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থক কাউন্সিলর প্রার্থী মোজাম্মেল হকের সমর্থকদের। এ সময় ফাঁকা গুলির ঘটনাও ঘটে ও এলাকাটি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, সাঈদের সমর্থকরা বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরামবাগ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

আহত একাধিক ব্যক্তি দেশ রূপান্তরকে জানান, কোন কারণ ছাড়াই আওয়ামী লীগ সমর্থিত মোজাম্মেল হকের ঘুড়ি মার্কার সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে। এ সময় আরামবাগ স্কুলের  গেটে পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও সংঘর্ষ থামাতে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

এ ঘটনায় ৫জনকে চিকিৎসা দিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতরা হলেন- সুজন হোসেন (৩২), মিঠু (৩০), আরিফুল হোসেন (২২), আল আমিন (২৫) এবং সোহাগ (২২)। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল খান দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাদের সবাই  ইট পাটকেলের আঘাত প্রাপ্ত।

পুলিশের মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. এনামুল হক মিঠু দেশ রূপান্তরকে বলেন, কোন গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ  রাত ৯টার মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে।

ঢাকা দক্ষিণের কদমতলিতে কেন্দ্রে প্রবেশ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার জের ধরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডে দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা জানান, ওয়ার্ডের কদমতলী থানা এলাকার হাজী শরীয়তউল্লাহ হাইস্কুলে একদল যুবকের সঙ্গে এলাকাবাসী ও পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী  খোরশেদ আলম ওরফে বাবু মাস্টার  লোকজন নিয়ে ওই কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। এসময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আকাশ কুমার  ভৌমিকের  লোকজন তাকে বাধা  দেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা, হট্টগোল হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ড স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী তারিকুল ইসলাম সজীবের বাসায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাতে সজীবের হাজারীবাগের বাসায় প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জিন্নাত আলীর লোকজন ও পুলিশ মিলে এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

তারিকুল ইসলাম বলেন, রাত ৮টার দিকে জিন্নাত আলীর একদল ক্যাডার ও হাজারীবাগ থানার কয়েকজন পুলিশ আমার বাসায় হামলা চালায়। এ সময় তারা বাসার জিনিসপত্র তছনছ করে। আমার দুজন কর্মীকেও পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। আমার মাকে অপমান করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমার পোলিং এজেন্টদের হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে। তারা বাসায় যেতে ভয় পাচ্ছেন। তারিকুল ইসলাম সজীব আওয়ামী লীগের সমর্থনে ২০১৫ সালে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এবার দলীয় সমর্থন চেয়ে তিনি পাননি। জিন্নাত আলী দলের সমর্থন পেয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাজারীবাগ থানার ওসি একরাম আলী মিয়ার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। এদিকে ৩৮ নং ওয়ার্ডে নবাবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গেন্ডারিয়া মনিজা রহমান হাইস্কুল ও ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের জনতাবাগ হাইস্কুলের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা কে বা কারা  বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।