চসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে অপতৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ: বিএনপি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে সিএমপি পুলিশ দলীয় নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

শনিবার চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নীল নকশা বাস্তবায়নে সিএমপির অত্যুৎসাহী কিছু পুলিশ কর্মকর্তা এখন থেকেই মাঠে নেমে গেছে।

নগরীর নাসিমন ভবনে দলীয় কার্যালয়ে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার এবং সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মঙ্গলবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভা চলাকালে পুলিশ বিনা কারণে কার্যালয়ে ঢুকে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ কোন কারণ ছাড়াই মারমুখী হয়ে নেতা কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং গুলি চালায়।

তিনি বলেন, পুলিশের গুলিতে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাইনুদ্দীন শহীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ. এম. রাশেদ খান, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক কে. এম আব্বাস ও গাজী শওকতসহ ১০/ ১২ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদ আলম সর্দার, সহসাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দীন নিলয়, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম খলিল, মো. বেলালকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি বলেন, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আবারও ষড়যন্ত্রমূলক অপতৎপরতা শুরু করেছে। তথাকথিত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে যেভাবে গায়েবি মামলা দিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ঠিক তেমনিভাবে কিছু অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তা আবারও গ্রেপ্তার-নির্যাতন শুরু করেছে।

মূলত আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ এই অপতৎপরতা চালাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, নেতা-কর্মীদের যদি এভাবে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় তাহলে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।