টাকা দিয়ে নিজ বিদ্যালয়ে কোচিং না করায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জের বাহাদুরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক বিদায় সংবর্ধনায় অংশ নিতে দেননি– এমন সংবাদ দেশ রূপান্তর পত্রিকায় প্রকাশের পর শনিবার বিকেল ৩টায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে ডেকে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন।
এর আগে ওইদিন ‘কোচিং না করায় বিদায় সংবর্ধনা দিলেন না প্রধান শিক্ষক’ শিরোনামে দেশ রূপান্তর পত্রিকার শেষ পাতায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর অভিভাবক ও বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠলে একই দিনে বাহাদুরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওই ১৮ শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে ডেকে বিদায় সংবর্ধনা দেন। স্কুলজীবনের শেষ সময় এসে এসব শিক্ষার্থী বিদায় সংবর্ধনা পেয়ে বেশ আনন্দিত বলে জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে অভিভাবকরাও আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার বিকেল ৩টায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিস্টার আলী ও অন্য শিক্ষকদের উপস্থিতিতে এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন প্রধান শিক্ষক মোকাররম হোসেন।
বাহাদুরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের এসএসসি পরীক্ষার্থী সোনামণি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা প্রথম যেদিন বিদ্যালয়ে বিদায় সংবর্ধনা নিতে গিয়েছিলাম সেদিন প্রধান শিক্ষক আমাদের বিদায় দেননি। কিন্তু স্যার যখন আজকে (গতকাল শনিবার) আমাদের সবাইকে ডেকে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন তখন খুব আনন্দ লাগছে। আমাদের স্যারের ওপর কোনো ক্ষোভ বা রাগ নেই। তিনি আমাদের শিক্ষাগুরু। আমরা স্যারের কাছে দোয়া চেয়েছি যাতে ভালো ফল করতে পারি।’
এসএসসি পরীক্ষার্থী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আশরাফ আলী আনন্দ প্রকাশ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটা বাচ্চা ভুল করতেই পারে কিন্তু একজন শিক্ষকের ভুল করা যাবে না। প্রধান শিক্ষক আমাদের বাচ্চাগুলোকে নিজে থেকেই সকালে মোবাইল ফোনে কল করে আজকে (শনিবার) বিদায় অনুষ্ঠানের কথা বলেছেন। বিষয়টি যখন শুনেছি তখন আমারও ভালো লেগেছে।’
প্রধান শিক্ষক মোকাররম হোসেন বলেন, ‘আসলে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। দোয়া করি তারা যেন ভালো ফল করে।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিস্টার আলী বলেন, ‘সবকিছু মিটমাট হয়ে শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। আশা করি তারা ভালো ফল করবে।’