নেত্রকোনায় পৃথক ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী হত্যার রহস্য উন্মোচন

নেত্রকোনায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ঘটে যাওয়া দুইটি চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে বলে দাবি করেছে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ।

সদর উপজেলায় স্ত্রী কর্তৃক স্কুলশিক্ষক স্বামী হত্যার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উন্মোচন। অপরটি বারহাট্টা উপজেলায় স্বামীর হাতে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী খুন।

শনিবার দুপুরে পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী এসব তথ্য অবহিত করেন। হত্যাকাণ্ড দুইটিই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

গত ২৭ জানুয়ারি সকালে সদর উপজেলায় গোবিন্দ্রশী উচ্চ বিদ্যালয়ের  শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক মো. উজ্জ্বল চৌধুরীর (৪২) মৃতদেহ সিংহের বাংলা ইউপির কোনাপাড়া গ্রামে শ্বশুর বাড়ির অদূরে জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে। সে মদন উপজেলার গোবিন্দ্রশ্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চার শিক্ষক এবং দুই সন্তানের জনক।

এ ঘটনার রহস্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উন্মোচন করতে পেরেছে বলে পুলিশ সুপার জানান, ২৬ জানুয়ারি মণি বেগম পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার বাবার বাড়িতে স্পিডের (কোমল পানীয়) সঙ্গে চারটি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামী উজ্জ্বল চৌধুরীকে সেবন করায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী মণি বেগমের চাচাতো ভাই আনারুল ইসলাম জয় (১৫) উজ্জ্বলের হাত, পা ও মুখ মাফলার দিয়ে বেঁধে চাদরের সাহায্যে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং লাশ টেনে হিঁচড়ে জঙ্গলের পাশে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। এ বিষয়ে আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে তিনি জানান।

অপর ঘটনায়, গত ৮ জানুয়ারি রাতে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সিংধা গ্রামে তমালিকা (২০) নামে এক সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, এক বছর পূর্বে রাসেল ও তমালিকার বিবাহ হয়। বিভিন্ন কারণে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও বিরোধ চলে আসছিল। গত ৮ জানুয়ারি দুপুরে রাসেল অজ্ঞাতনামা (তদন্তর স্বার্থে নাম গোপন) আরেকজনকে নিয়ে ভালুকা থেকে রওনা দেয়। রাত প্রায় ১২টার দিকে তারা বাড়িতে পৌঁছে। রাসেলের মা দরজা খুলে দিলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রাসেলের মার হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে। তমালিকার শয়নকক্ষে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় নাক মুখ চেপে ধরায় তমালিকা অজ্ঞান হয়ে যায়। দুজনে মিলে ধরাধরি করে তমালিকাকে বারান্দার মেঝেতে রেখে চাকু দিয়ে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে চুরির নাটক সাজানো হয়।

এ ঘটনায় মূল আসামি রাসেলকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে।

আসামি রাসেল খুবই চতুর এবং মোবাইল প্রযুক্তি সম্পর্কে কৌশলী ছিল। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর এলাকায় আরেকটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তার। সে মেয়ের সহযোগিতায় অবশেষে গত ৩০ জানুয়ারি রাসেলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদ আহমেদ।  

রাসেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং এ কাজে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান নেত্রকোনার পুলিশ সুপার।  

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এস এম আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শাহজাহান মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফকরুজ্জামান জুয়েল, সংশ্লিষ্ট দুই থানার ওসিসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।