বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে পরিষ্কার কর্মসূচির নামে আগুন লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের লাগানো অর্ধ-শতাধিক গাছ পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে সকাল সাড়ে ১১ টায় মাঠ পরিষ্কার কর্মসূচি নাম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর মো. নুর ইসলামের নেতৃত্বে একদল কর্মচারী কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আগুন দেয়। এতে শহীদ মিনারের আশে-পাশে ও মুক্তমঞ্চের পাশে বকুল, বাদাম, আম, নিমসহ ৬৫ টি চারাগাছ পুড়ে যায়।
গত জুন-জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশবাদী সংগঠন, জেলা অ্যাসোসিয়েশন ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগে ক্যাম্পাসে প্রায় ৪ শতাধিক বৃক্ষরোপণ করা হয়। গাছগুলো এমন হেলায় পোড়ানোয় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।
গাছ পোড়ানোর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন 'আরণ্যক' উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে জরিমানা ও দোষীদের শাস্তির দাবি করেছে।
দেলোয়ার হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল ফেইসবুক গ্রুপ লিংকার্সে লিখেছেন, ববি ক্যাম্পাসে অস্ট্রেলিয়ান দাবানল দেখতে পেলাম। আছে দু চারটি বৃক্ষ, তাও নাকি গ্রীন ক্যাম্পাস! এখন তো মনে হচ্ছে শুধুই ধূসর আর ধূসর।
মাঠের আগাছা পরিষ্কারের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী এস্টেট অফিসার মো. সাইদুজ্জামান বলেন, ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর নুরু আমাকে এই ব্যাপারে কিছু জানায়নি। তিনি নিজ উদ্যোগে আগুন দিয়েছেন।
অভিযুক্ত ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর নুরু ইসলামের কাছে এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীরা জানতে চাইলে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন,তোমাদের কিন্তু সমস্যা হয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আছে, তারা এই ব্যাপারে দেখবে। তোমরা কারা? তোমাদের কাছে জবাব দিতে আমি বাধ্য নই।
তিনি আরও জানান, খেলার মাঠের ওই অংশে ঝোপঝাড় ছিল। পরিষ্কার করতে গিয়ে আমাদের কর্মচারীরা ওখানে সাপ দেখতে পায়। তাই আগুন লাগিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। আমি একটি ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে কাজটি করতে গিয়ে খারাপ হয়ে গেছে। কিছু চারাগাছ পুড়ে গেছে। এছাড়াও ঝোপ ঝাড়ের মাঝে বল আনতে গিয়ে যদি কোন শিক্ষার্থীকে সাপের কামড় দেয় তাহলে সেই দায় কে নিত? পাঁচ, দশ, পঞ্চাশ হাজার টাকার গাছ কি একটি জীবনের চেয়ে বড়?
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, নুর ইসলাম স্বীকার করছেন নিজ দায়িত্বে কারও আদেশ ছাড়াই গাছে আগুন দিয়েছেন। একপর্যায়ে বলতে শোনা যায় ৫০ হাজার এক লাখ টাকা কোন সমস্যাই না তার কাছে। দরকার হলে গাছ লাগিয়ে দেবেন।