বর্তমানে বিশ্বের ১২৬টি দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়লেও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশ। এসব দেশে প্রায় ৫২ শতাংশ মানুষ ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে। আর সারা বিশ্বের ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ রয়েছে মশকবাহিত ভাইরাসজনিত এই রোগটির ঝুঁকিতে।
মঙ্গলবার একটি সচেতনতা সভায় এডিস মশার উৎপত্তিস্থল, বংশবিস্তার, রোগ-জীবাণু বহন, মানুষকে আক্রান্ত করাসহ বিশ্বে ডেঙ্গু রোগের সামগ্রিক চিত্র ও তথ্য-উপাত্ত নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে এই তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) সার্ভিলেন্স মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. তৌহিদুল হক।
রাজধানীর উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে এডিস ও কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সচেতনতা সভাটির আয়োজন করে। সেখানে ডা. তৌহিদুল হক বলেন, এ পর্যন্ত পৃথিবীর ১২৬টি দেশে ডেঙ্গুজ্বর ছড়িয়ে পড়েছে। এ বছর বিশ্বের ২৫০ কোটির অধিক মানুষ এই রোগটির ঝুঁকিতে আছে। তিনি জানান, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশ। এসব দেশে প্রায় ৫২ শতাংশ মানুষ ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে।
সভায় এডিস ও কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসি কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমের সচিত্র পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লে. কর্নেল মো. গোলাম মোস্তফা সারওয়ার। তিনি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ২০১৯ সালে ডিএনসিসির সামগ্রিক কার্যক্রম ও ২০২০ সালে চলমান এবং আসন্ন এডিস মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
মো. গোলাম মোস্তফা সারওয়ার বলেন, এ রোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যে আমরা গত বছর বিভিন্ন আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একাধিক অবহিতকরণ সভা, সচেতনতামূলক পদযাত্রা ও পথসভা, বাউল সংগীত, জাতীয় পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি, সচেতনতামূলক বার্তা, টেলিভিশনে টিভিসি প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করেছি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন বলেন, আমরা গত বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। আমরা খুঁজে বের করেছি কোথায় কোথায় এডিস মশা প্রজনন করে, কোথায় এদের ঘনত্ব বেশি, কোন বয়সের মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়। তাই এসব তথ্য-উপাত্ত কাজে লাগিয়ে এবার আমরা বছরের শুরু থেকেই পুরোদমে কাজে নেমেছি।
ডিএনসিসির অঞ্চল ১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকার নায়নের সভাপতিত্বে এবং সিডিসির সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে ডিএনসিসির অঞ্চল ৬-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া আফরীন, অঞ্চল ৭-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ রুহুল কুদ্দুস, অঞ্চল ৮-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবেদ আলী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, উত্তরার বিভিন্ন কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দসহ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ উত্তরা এলাকার বিভিন্ন সরকারি/বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং মসজিদের ইমামগণ উপস্থিত ছিলেন।