বিএনপির আচরণ নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকার মতো: তথ্যমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি সব সময় প্রযুক্তিকে ভয় পায়, আর যখনই নির্বাচনে হেরে যায় তখন তাদের আচরণ ‘নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা’র মতো অভিযোগ উপস্থাপন করে। বুধবার বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে করা অভিযোগও সেরকম ছিল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বিএনপিকে এ ধরনের আজগুবি অভিযোগ উপস্থাপন নাকরে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আপনাদের নেতাকর্মীরা কেন আপনাদের কাছ থেকে সরে গেছেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা কেন ভোটের দিন মাঠে ছিল না সেই বিশ্লেষণ করুন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ঢাকা সিটি নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হবার পর বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে কিছু আজগুবি অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন। তারা বলেছেন ইভিএম মেশিনে নাকি রাত পর্যন্ত ভোট দেওয়া হয়। ইভিএম মেশিনে যদি এমন সুযোগ থাকতো তাহলে ভোট গ্রহণের হার ২৫ শতাংশ থাকতো না, ৬০ শতাংশের উপরে যেত।

তিনি বলেন, ‘ইভিএম মেশিন নিজেই সব দলের জন্য পোলিং এজেন্টের কাজ করে। কারও যদি আঙ্গুলের ছাপ না মিলে কোনোভাবেই ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি সিইসিকেও আঙ্গুলের চাপ না মেলায় ভোট দিতে অনেক বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা দ্বিগুণ ভোট পেয়ে যখন জয়ী হয়েছে তখনতো বিএনপিকে নানা ধরনের অভিযোগ উপস্থাপন করতে হবে। সেটাই তারা করেছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকা সিটি নির্বাচনে কোনো কেন্দ্র দখল, বড় কোনো হাঙ্গামা হয়নি, সিল মারার কোন ঘটনা ঘটেনি। অতীতে দেখেছি আমাদের দেশে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অনেক হাঙ্গামা, কেন্দ্র দখল ও মানুষ মারা যায়। ঢাকা সিটি করপোরেশনে ইভিএম মেশিনের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের ফলে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। শুধুমাত্র দেশের বিচারে নয় উপমহাদেশীয় মানদণ্ডেও ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছিল অত্যন্ত ভালো একটি নির্বাচন।

এ সময় তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারসহ বিগত নির্বাচনগুলোতে যারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছে তাদের সভাপতি সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা যাবে না। দলীয় শৃঙ্খলা ছাড়া দলকে আমরা কোনভাবেই শক্তিশালী করতে পারব না।

প্রতিনিধি সভায় অন্যান্যের মধ্যে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিন্নাতুন নেছা তালুকদার, প্রফেসর মনছুর রহমান এমপি, সাবেক এমপি আকতার জাহান।