ডাকসুতে সাদ্দামের এজেন্ডা নিয়ে ছাত্রলীগ প্যানেলে ক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সভার আলোচ্যসূচি নির্ধারণ নিয়ে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত কয়েকজন সম্পাদক ও সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তাদের অভিযোগ, ডাকসুর আলোচ্যসূচিতে এজিএস সাদ্দাম হোসেনের ব্যক্তিগত এজেন্ডাই বেশি। আলোচ্যসূচি নির্ধারণে ডাকসুর অন্য সদস্যদের মতামত নেয়া হয়নি। এসব এজেন্ডা শিক্ষার্থীবান্ধব না হওয়ায় কার্যকরী সভা বর্জন করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, শনিবার দুপুর ৩টায় ডাকসু কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। ছাত্রলীগ থেকে নির্বাচিত ডাকসুর বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, ডাকসুর কার্যকরী সভায় কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে সেগুলো সাদ্দাম নিজে নিজে ঠিক করেন। যেখানে তার ইশতেহারের বিষয়গুলোই প্রাধান্য পেয়েছে। এর আগের সভাগুলোর এজেন্ডাও তিনি নিজে নিজে ঠিক করেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার, সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, সদস্য তানভীর হাসান সৈকতসহ অন্তত ১০ জন প্রতিনিধি ডাকসুর আলোচ্যসূচির বিষয়ে জানেন না বলে নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের প্রধান সমস্যা গণ রুম সংকট। আর এটি সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকত। কিন্তু তার এই দাবিটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি ডাকসুর কার্যনির্বাহী সভার আলোচ্যসূচিতে। এই ক্ষোভে সভা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সৈকত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডাকসুর অনেক প্রতিনিধি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন। কিন্তু সেগুলোও আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়নি। আমি গণ রুম সংকট নিয়ে কাজ করছি, বছরের শুরুতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এই সমস্যার সম্মুখীন হন। কিন্তু আলোচ্যসূচিতে আমার কোনো এজেন্ডা রাখা হয়নি। এগুলো প্রশাসনের ‘পা-চাটা’ এজেন্ডা।

ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত ডাকসুর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আলোচ্যসূচির বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ১৮টা হলে বঙ্গবন্ধু কর্নার করেছি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এবারের বইমেলায় একটি স্টলও দিয়েছি। ক্যাম্পাসের মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্দোলনভিত্তিক ভাস্কর্যগুলোর পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কাজ করব, যা কার্যকারী সভায় আলোচ্যসূচিতে রাখতে পরামর্শ দেব বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু আলোচ্যসূচি তৈরি হয়েছে সেটা আমি নিজেও জানি না।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক আমার কোনো এজেন্ডা আলোচ্যসূচিতে রাখা না হলে আমি ডাকসুর কার্যনির্বাহী সভায় অংশ নেব না।

এসব এজেন্ডাকে ‘প্রশাসনের পা-চাটা এজেন্ডা’ বলে মন্তব্য করেছেন সাদও।

ডাকসুর বিগত কয়েকটি সভার আলোচ্যসূচি পর্যালোচনা করে জানা যায়, যেসব বিষয় নিয়ে কার্যকরী সভায় আলোচনা হয়েছে তার অধিকাংশ বিষয় ছিল ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেনের নির্বাচনী ইশতেহার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত ডাকসুর বেশ কয়েকজন সম্পাদক ও সদস্য বলেন, ভবিষ্যতে এজিএস সাদ্দাম হোসেন ডাকসুর ভিপি পদে নির্বাচন করবেন বলে তিনি নিজের ইশতেহার বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। যেখানে অন্যদের বিষয়গুলো প্রাধান্য দেওয়া হয় না। প্রকৃতপক্ষে এটা একটা সাজান প্রেসক্রিপশন।

 

সাদ্দামকে অভিযুক্ত করে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, আমি গণমাধ্যমসূত্রে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সভার বিষয়ে জানতে পেরেছি। এই বিষয়ে ডাকসুতে কোনো আলোচনাই হয়নি। সাদ্দাম নিজে সব করে আমাকে চিঠি পাঠায়।

এসব অভিযোগের বিষয় জানতে চাওয়া হলে ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেন, আলোচ্যসূচিতে কারও কোনো বিষয় থাকলে তা সংযোজন-বিয়োজন করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী বলেন, এসব সাদ্দাম করেছে কি না জানি না। তবে এজেন্ডা ঠিক করার আগে দুইটা সভা হয়েছিল, যেখানে সবাই বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু সেই সভায় সবাই উপস্থিত ছিলেন না। তবে যাদের যেসব বিষয় এজেন্ডাভুক্ত করা দরকার তারা যোগাযোগ করলে তা আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।