ঘরের মাঠে জয়ের সুযোগ নষ্ট করে এখন জটিল হয়ে গেছে আবাহনীর এএফসি কাপের সমীকরণ। মালদ্বীপের মাজিয়া এসআরসি’র বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ে এখন ফিরতিপর্বে মালেতে ১২ ফেব্রুয়ারি দিনটি নিজেদের করতে হবে আবাহনীর। বুধবার ম্যাচ শেষে আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস শিষ্যদের নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। মরিয়া ভাবটাই ছিল উধাও। সেটা মেনে নিয়েছেন ফুটবলাররাও।
অসুস্থতার কারণে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ মিস করেছিলেন স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবন। আবাহনীর হয়ে অবশ্য মাঠে ফিরলেও সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তাদের নিয়ে কোচের বলা কথাগুলো মেনে নিলেন দলকে নেতৃত্ব দেওয়া জীবন। তবে নিয়মিত ম্যাচের মধ্যে না থাকাকেও দুষেছেন তিনি, ‘গত এএফসি কাপের সঙ্গে তুলনা করলে এবার প্রথম ম্যাচে আমরা ছন্দে ছিলাম না। ম্যাচের মধ্যে না থাকার কারণে জড়তা ছিল। সেটা আমাদের শরীরী ভাষায়ও ফুটে উঠেছে। মরিয়া ভাবটাই ছিল না আমাদের মধ্যে। মূল সমস্যা হলো, আমরা লিগের খেলায় ছিলাম না।’ বর্ষীয়ান সেন্টারব্যাক নাসিরউদ্দিন চৌধুরীও বললেন একই কথা, ‘খেলার মধ্যে থাকলে আমাদের এএফসি কাপের প্লে-অফ আরও ভালো হতো। ম্যাচ জেতাও কঠিন হতো না। গতবার লিগ চলাকালীন আবাহনী এএফসি কাপের ম্যাচ খেলেছে। যার ফলটা তারা ঠিকই পেয়েছিল। পারস্পরিক সমঝোতা বেড়েছিল। ফেডারেশন কাপ শেষে খেলায় এক মাসের যে ছেদ পড়েছে সেখানেই সব শেষ হয়ে গেছে।’ আরেক অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম মনে করেন দল গোলের সুযোগগুলো ঠিকমতো কাজে লাগালে জয় পেতে পারত। তবে নিয়মিত খেলার মধ্যে না থাকার কারণে গতিটা কম ছিল তাদের, ‘আমি মনে করি গোলের যে সুযোগগুলো আমরা নষ্ট করেছি, সেগুলো হয়ে গেলে জিততে পারতাম। ওদের খেলাটা আমরা ধরে ফেলেছিলাম। আরও একটু গতি বাড়িয়ে খেললে হয়তো ভালো হতো। কিন্তু অনেক দিন খেলার মধ্যে না থাকায় সেভাবে গতি বাড়ানো যায়নি।’
প্রথম লেগের ব্যর্থটাকে পাশে সরিয়ে আবাহনীর ফুটবলাররা এখন স্বপ্ন দেখছে মালেতে ১২ অক্টোবর দিনটি নিজেদের করে নেওয়ার। ‘কাজটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়’ বলে নাসির যোগ করেন, ‘ওদের দরকার ড্র, আর আমাদের দরকার জয়। এটা একদিক থেকে আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। আমরা মরিয়া চেষ্টা চালাব। কথা দিচ্ছি ঢাকার চেয়ে সেখানে আমাদের পারফরমেন্স ভালো হবে।’ আবাহনীর ফুটবলাররা তাদের কথা রাখতে পারলেই হলো।