দুর্বল অবকাঠামো, বিপাকে উদ্যোক্তারা

প্রতিষ্ঠার অর্ধশতক পরও পূর্ণতা পায়নি খুলনায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরী। নগরীর শিরোমনি এলাকায় ৪৪ দশমিক ১০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা এ শিল্প এলাকাটিতে হয়নি আধুনিকায়ন। রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ অবকাঠামোর বেহাল অবস্থা, সার্ভিস চার্জ বৃদ্ধি এবং জমি নিয়ে আইনি জটিলতায় উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতে প্রতিবন্ধকতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত সম্ভাবনাময় এ প্রকল্পটি। এখানে দিন দিন বাড়ছে রুগ্ণ শিল্পের সংখ্যা। বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০টি। আর বর্তমানে যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো চালু আছে সেগুলোরও কর্ণধারদের ভাষ্য, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে চলে যাওয়া ছাড়া কোনো গতি থাকবে না।

এদিকে আইনি জটিলতার কারণে রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্লট বরাদ্দ বাতিল করে নতুন উদ্যোক্তাদের বরাদ্দ দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারছে না বিসিক কর্র্তৃপক্ষ। ফলে মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কথা চিন্তা করে খুলনা মহানগরীর শ্যামগঞ্জ মৌজার শিরোমনিতে শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ১৯৬৫ সালের ৮ মার্চ প্রকল্পের অনুমোদন দেয় তৎকালীন সরকার। ১৯৭৮ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। এ শিল্পনগরীতে ২৪০টি প্লট বরাদ্দ নিয়ে ৮৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। এর মধ্যে বর্তমানে চালু রয়েছে ৬০টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ১৬টি খাদ্যজাত, ১টি পাটজাত, ৪টি বনজ, ২৩টি কেমিক্যাল, ১২টি প্রকৌশল এবং ৪টি প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং শিল্প। চালু প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৪ হাজার ৫৪৪ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।

আর ২০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সেগুলো হলো মেসার্স নাহিদ উডেন ইন্ডাস্ট্রিজ, সোহানা ইন্ডাস্টিজ লিমিটেড, বারী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মধুমতি কোক অ্যান্ড ব্রিকস ইভা (প্রা.) লিমিটেড, মডার্ন পিপি ব্যান্ড ইন্ডা. (প্রা.) লিমিটেড, সায়েরা অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা.) লিমিটেড, জামান অ্যাসোসিয়েট ইন্ডা. (প্রা.) লিমিটেড, এআর ফ্লাওয়ার্স মিল, মহাসিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, অ্যাকুয়া রিসোর্স লিমিটেড, এশিয়ান প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ, এশিয়ান স্পুল ইন্ডাস্ট্রিজ, অ্যালার্ম ইন্ডাস্ট্রিজ, মেসার্স খুলনা পেপার বোর্ড অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ, জুট স্পিনার্স লিমিটেড, মদিনা ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ, জুট ইয়ার্ন ডায়িং অ্যান্ড স্টারসিং প্রসেসর ইন্ডাস্ট্রিজ, খায়রুন নেছা কনিক্যাল স্পুল অ্যান্ড ববিন ফ্যাক্টরি ও মেসার্স গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজ।

সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ খুলনা বিসিক শিল্পনগরীর অবকাঠামোর বেহাল অবস্থা নিয়ে উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ এখানকার শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত শ্রমিকরাও। বিসিকের একটি বিস্কুট কোম্পানির শ্রমিক হাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিসিকের প্রধান রাস্তাটি গত ২০ বছরেও সংস্কার হয়নি। রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা। বর্ষার সময় রাস্তায় হাঁটুপানি জমে থাকে। তাই রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা ছোট-বড় বেশকিছু কোম্পানিকে সমস্যায় পড়তে হয়। আর এই ভাঙা রাস্তা দিয়ে নিয়মিত পণ্যবাহী ট্রাক ঢোকায় এগুলোর অবস্থা আরও বেহাল হচ্ছে।’

বিসিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান মালিক সমিতির সহসভাপতি আমজাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখানে সমস্যার অন্ত নেই। সড়ক বেহাল হওয়ায় মালামাল আনা-নেওয়ায় সমস্যা পোহাতে হয়। এছাড়া কোনো আলাপ-আলোচনা ছাড়াই ইচ্ছেমতো বাড়ানো হয়েছে ট্যাক্স। ফলে এখানে ব্যবসা করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।’

অপ্রতুল অবকাঠামো এবং উদ্যোক্তাদের করা অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে খুলনা বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ব্যাংক ঋণ ও লোকসানের কারণে ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাংকের দেওয়া লোনের মামলা এখনো চলছে। এ কারণে বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিসিক আইন অনুযায়ী কোনো পদক্ষেপও নিতে পারছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিল্পনগরীর সড়কগুলোর সংস্কারকাজ চলছে। আগের থেকে অনেক উন্নয়ন হয়েছে বিসিকের। আস্তে আস্তে এটি লাভজনক প্রকল্পে রূপ নেবে বলে আশা করছি।’