চৌহালীতে যমুনার ভাঙনে সড়কে ঠাঁই শতাধিক পরিবারের

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের মিটুয়ানী গ্রামজুড়ে শুরু হয়েছে অসময়ে যমুনা নদীর ভাঙন। ১ সপ্তাহের ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। তারা আশ্রয় নিয়েছে পাশের পেরহাইপুখুরিয়া গ্রামের সড়কের পাশে। স্ত্রী, সন্তান ও গবাদিপশু নিয়ে এসব মানুষ খোলা আকাশের নিচে অথবা ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। তাদের দিন কাটছে অর্ধাহারে-অনাহারে।

ভাঙনে এরই মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে গ্রামের একটি কবরস্থান, একটি মসজিদ, ২০টি তাঁত কারখানা ও এক কিলোমিটার পাকা সড়ক। ভাঙনে সড়ক বিলীন হওয়ায় শিক্ষাথী© ও পথচারীরা বাধ্য হয়ে কারও বাড়ির উঠান অথবা ঘরের বারান্দর ওপর দিয়ে যাতায়াত করছে।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মিটুয়ানী গ্রামের আবু দাউদ মাস্টার, আবদুর রহমান, রুহুল আমীন, আবদুল কাদের, লুৎফর রহমান, ইয়াসিন আলী, ইসমাইল হোসেন, আকলিমা খাতুন, আতিক মোল্লা জানান, এক মাস ধরে এই গ্রামে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে শতাধিক বাড়িঘরসহ পাকা সড়ক, গাছপালা ও ফসলি জমি চোখের সামনে বিলীন হয়ে গেছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে সরেজমিন মিটুয়ানী গ্রামে দেখা যায়, লোকজন বাড়িঘর সরিয়ে নিতে ব্যস্ত। অনেকেই পৈতৃক ভিটা হারিয়ে নদীর পাড়ে আহাজারি করছেন। কেউ কেউ গাছপালা কেটে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। পানির ঘূর্ণাবর্ত ও স্রোতের তোড়ে বিশাল এলাকায় বড় বড় ফাটল তৈরি হয়ে মুহূর্তে তা ধসে পড়ছে। ভাঙনের এ  তাণ্ডব গ্রামজুড়ে শুরু হওয়ায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রবিউল ইসলাম জানান, ভিটেমাটি হারানো এসব পরিবারকে মানবিক কারণেই দ্রুত পুনর্বাসন করা প্রয়োজন। মিটুয়ানী গ্রামের একটি বাজার, একটি হাইস্কুল, একটি প্রাইমারি স্কুল, একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা, দেড় শতাধিক বাড়িঘর, পাশের দেওয়ানগঞ্জ বাজার ভাঙনের মুখে পড়েছে।

চৌহালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ সরকার জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে তারা বিভিন্ন সড়ক ও পরিত্যক্ত জায়গায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ভাঙছে।

চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মওদুদ আহাম্মেদ জানান, মিটুয়ানী গ্রামের ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃ©পক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশ্রয়হীনদের দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীর পূর্বপাড়ের চৌহালী অংশ টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড দেখে। এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, এ খাতে আমাদের নগদ অর্থ বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ পেতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে। তবে আমার অনুরোধে দুজন ঠিকাদার বাকিতে কাজ করতে রাজি হয়েছেন। আশাকরি এ সপ্তাহের মধ্যেই এ ভাঙন রোধে কাজ শুরু হয়ে যাবে।