আকবর দ্য গ্রেট

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসের অংশ এখন আকবর আলী। এই যুবার নেতৃত্বেই যে যুব বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।

রবিবার আসরের ফাইনালে চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে এদিন ৩ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশের যুবারা।

কিন্তু আকবরের বীরত্ব কি আর শুরুর দুই লাইনেই প্রকাশ করা যায়? ফাইনালে বিষম চাপের মুখে এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানই তো খেললেন লড়াকু এক ইনিংস। ১৭৭ রানের লক্ষ্য (বৃষ্টিতে শেষ মুহূর্তে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৬ ওভারে ১৭০) তাড়া করতে নেমে ক্ষণে ক্ষণে রং বদলানো ম্যাচে বাংলাদেশ বেশির ভাগ সময়ই থেকেছে ব্যাকফুটে। সেখান থেকে ৭৭ বলে অপরাজিত ৪৩ রানের ইনিংসে ম্যাচ জিতিয়ে ফিরেছেন আকবর।

ঠান্ডা মাথার এক অধিনায়কের নৈপুণ্যে এখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। যার ইনিংস নিয়ে এদিন একটা কথাই বলা যায়- ‘আকবর দ্য গ্রেট’।

অথচ আসর জুড়ে ব্যাটিংয়ে নিজেকে সেভাবে চেনাতেই পারেননি আকবর। আসলে ব্যাটিংয়ের সুযোগটাই তো পাচ্ছিলেন না তিনি। গ্রুপ পর্বে প্রথম দুই ম্যাচে তার ব্যাটিংয়ে নামার প্রয়োজনই পড়েনি। জিম্বাবুয়ে ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তার নামার আগেই জিতে যায় দল।

পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচটায় ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেলেন। বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া ম্যাচটায় পুরো দলের ব্যাটিংই ভালো হয়নি। আকবর ছয় নম্বরে নেমে ১১ বলে ৫ রানের বেশি করতে পারেননি।

নটআউট পর্বে তার নামার আগেই কাজ সেরেছেন সতীর্থরা। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ছিলেন ৫ রানে। কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অপরাজিত ছিলেন ১৬ রানে।

সেই আকবর ফাইনালে যখন ব্যাটিংয়ে নামলেন, তখন বাংলাদেশ ৬৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিষম চাপে। ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন আবার মাঠ ছেড়েছেন হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে। সেখান থেকে সামিম হোসেনকে নিয়ে আকবর ২০ রানের জুটি গড়েন। এরপর অভিষেক দাসকে নিয়ে যোগ করেন ১৭ রান।

১০২ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর সবচেয়ে কার্যকরী জুটিটা হলো ফের ব্যাটিংয়ে নামা ইমনের সঙ্গে। সপ্তম উইকেটে দুজন যোগ করলেন ৪১। কিন্তু ৩২তম ওভারের শেষ বলে ইমন যখন ব্যক্তিগত ৪৭ রানে ফেরেন বাংলাদেশ তখনো জয় থেকে বেশ দূরে।

আকবরকে তখন লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে একা লড়তে হতো। ভারতের মতো দলের বিপক্ষে সেই লড়াই কতটা কঠিন তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে। তা ছাড়া ছিল মনস্তাত্ত্বিক লড়াইও। এই ভারতের বিপক্ষে অতীতে বারবার শেষ মুহূর্তে হারের ক্ষত আছে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের দলের।

‘দ্য গ্রেট’ আকবর এদিন অবশ্য পুরোনো গল্প ফিরে আসতে দেননি। লিখেছেন নতুন গল্প। মাঝে অবশ্য বৃষ্টিও পরশ বুলিয়ে গেছে বাংলাদেশের মধুর জয়ে।

চ্যাম্পিয়নের ট্রফি হাতে উঠেছে আকবরের। উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কারও। ম্যাচ শেষে আকবর তাই বলছিলেন স্বপ্ন পূরণের অনুভূতি, ‘স্বপ্ন সত্যি হলো। শেষ দুই বছরে যে আমরা কঠিন পরিশ্রম করেছি, আজকে সেটির ফল পেলাম।’

‘কোচিং স্টাফ... তাদের শুধু ধন্যবাদ দিলে কম হবে। তারা মাঠ ও মাঠের বাইরে আমাদের যে সাপোর্ট দিয়েছেন। ... আমাদের দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। এটি আমাদের জন্য কেবল শুরু।’