পেইচিংয়ের সরবরাহকর্মী গুয়ো চিয়াংয়ের অপেক্ষায় তার পরিবার। বছরে মাত্র একবার চিয়াং নববর্ষের সময় তার পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু চীনে এবারের নববর্ষ ছিল অন্য সময়ের তুলনায় ভিন্ন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় চীনের অধিকাংশ প্রদেশের জনগণ কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন। আর এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণের জন্য তাদের সবার ভরসা চিয়াংয়ের মতো সরবরাহকর্মীরা।
চিয়াং দাদা-জেডি দাওজিয়া নামের একটি অনলাইন মুদিখানার সরবরাহকর্মী। তার মতো আরও কয়েক হাজার সরবরাহকর্মী রয়েছেন, যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে জেনেও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে এগিয়ে রেখেছেন। চিয়াংয়ের ভাষায়, ‘আমি বেপরোয়া মানুষ নই। কিন্তু আমার কাজ ও আমার জীবনের কথা চিন্তা করে আত্মমর্যাদার কথা ভেবে সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করছি।’
চীন কর্তৃপক্ষ তাদের নাগরিকদের করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এড়াতে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সরকারি নির্দেশ মেনে চিয়াংয়ের মতো অনেক অভিবাসী শ্রমিক বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো তাদের কর্মীদের তিনগুণ অধিক মজুরির বিনিময়ে এই দুর্যোগ পরিস্থিতিতে কাজ করার আহ্বান জানায়। কেএফসি, আলিবাবা হোল্ডিংস, মেইতুয়ান দিয়ানপিং ও জেডিডটকমের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের সুরক্ষায় চালু করেছে ‘স্পর্শহীন বিতরণ’ ব্যবস্থা। কাজে পাঠানোর আগে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের শরীরও পরীক্ষা করছে। এ বিষয়ে চিয়াং বলেন, ‘আমি অবশ্যই উদ্বিগ্ন। হালকা একটু কাশি হলেও আমি উদ্বিগ্ন হয়ে যাই। বাসায় থাকার সময় অথবা প্রতিদিন বাসায় ফিরে থার্মোমিটার দিয়ে আমার শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করি।’
ভাইরাসের ভয়ে ঘরে থাকা বাসিন্দারা এখন তাদের প্রয়োজনীয় উপকরণ অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয় করছেন। সবজি, ডিম ও চালের মতো খাদ্য উপকরণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এসব পণ্যের দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩০০ গুণ বেশি রাখছে। অতিরিক্ত দাম সত্ত্বেও নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ কিনতে বাধ্য হচ্ছে চীনারা। পেইচিং ও সাংহাইয়ের মতো বড় শহরগুলো কার্যতই এখন ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়েছে। নববর্ষের ছুটি শেষ হয়ে গেলেও শহরগুলোর অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই বন্ধ রয়েছে। কোম্পানিগুলো তাদের কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছে। তবু এর মধ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন চিয়াংয়ের মতো বহু সরবরাহকর্মী। তাদের সরবরাহ করা খাবারের ওপর নির্ভর করছে অগুনতি চীনা পরিবার।