সীমান্তে বিএসএফের (ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী) হাতে বাংলাদেশি হত্যা, নির্যাতন বন্ধ এবং নিহতের স্বজন ও নির্যাতিতদের জন্য ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ আবেদন করেন। এতে স্বরাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালকসহ সাতজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহতের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিএসএফের হাতে এক হাজার ১৪৪ বাংলাদেশি নিহত ও ১ হাজার ৩৬৭ জনকে অপহরণ করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা আসকের (আইন ও সালিশ কেন্দ্র) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিএসএফের গুলিতে ৩৩ জন ও নির্যাতনে ৫ বাংলাদেশি নিহত হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ভারতের সঙ্গে ছয়টি দেশের সীমান্ত রয়েছে। যুদ্ধ ছাড়া ভারতের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সীমান্তে হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্য।
আবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশিদের অপহরণ ও বাংলাদেশের সীমানার অভ্যন্তরে বাংলাদেশিদের গুলি করে বিএসএফ সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার’ ও ‘জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষণ’ প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিটি নাগরিকের যথাযথ বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেক্ষেত্রে সীমান্তে কোনো বাংলাদেশি অপরাধ করলেও তার আইনগত ও বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী জানান, আবেদনে সীমান্তে নিহত ও নির্যাতিতদের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্র ও লিবিয়ার মধ্যে সম্পাদিত ‘লকারবি সেটেলম্যান্ট’র কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারের জন্য ১ কোটি মার্কিন ডলার ও নির্যাতিতদের জন্য ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।