রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সুমন শিকদার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে খুন হয় সুমন। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য পেয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাত ১১টা থেকে গতকাল বুধবার ভোর পর্যন্ত ঢাকা মহানগরসহ আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. রাসেল (২১), মো. আল আমিন খান (২২), মো. ইমরান (১৯), মো. শাকিল (২০) ও মো. রাজীব (২০)।
ডিএমপির গোয়েন্দা-পশ্চিম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) গোলাম মোস্তফা রাসেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের শাহ আলম ওরফে গুরু ও ইমন গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে খুন হয় সুমন। উভয় গ্রুপই একই প্রার্থীর নির্বাচন করেছে। সুমন শাহ আলম গ্রুপের ছিল। নির্বাচনের দিন দুই গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে ইমন গ্রুপের লোকজন রাতে শাহ আলম গ্রুপের লোকদের ওপর হামলা চালায়। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা দাবি করেছে হত্যার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। ভয় দেখাতেই হালকা চড়-থাপ্পড় মারার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
ডিএমপির গোয়েন্দা-পশ্চিম বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আনিচ উদ্দীন জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টায় মোহাম্মদপুর থানাধীন রহিম বেপারির ঘাট এলাকায় সুমন শিকদার হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় ২ ফেব্রুয়ারি সুমনের বাবা বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা বিভাগ। তদন্তকালে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সুমন শিকদার হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করেছে।