লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আ.ক.ম রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে আদালতে জাল জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলা দায়ের করেছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনির হোসেন চৌধুরী।
তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.ক.ম রুহুল আমীনের দাবি মনির হোসেন চৌধুরী তার পাওনা টাকা না দিতে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার লক্ষমীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলাটি দায়ের করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনির হোসেন চৌধুরী।
মামলায় অন্য স্বাক্ষীদের সঙ্গে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহাজাহানকেও স্বাক্ষী করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১০ মার্চ উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মনির হোসেন চৌধুরী যশোরের চৌগাছায় আত্মীয়র বাড়ি থেকে ফেরার পথে এক্সিম ব্যাংক মতিঝিল শাখার একটি স্বাক্ষরিতসহ তিনটি চেকের পাতাসহ চেকবই ও মূল্যবান কাগজপত্রসহ একটি ব্যাগ হারিয়ে যায়। উক্ত ঘটনার পরদিন ১১ মার্চ যশোরের চৌগাছা থানায় মনির হোসেন চৌধুরী একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। উক্ত বিষয়ে ১২ মার্চ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবেও জানান তিনি।
এতে আরো বলা হয়, চেক হারানোর ঘটনার প্রায় ছয় মাস পরে জেলা জজ কোর্টের জারীকারকের মাধ্যমে তিনি (মনির হোসেন চৌধুরী) জানতে পারেন সি.আর-৩১৬/১৯ ইং ধারা এন.আই.এ্যাক্ট ধারায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার হারানো চেক বইয়ের স্বাক্ষরিত পাতায় (চেক নম্বর ৬৫২৫৬৪৭) মোটা টাকার অংক বসিয়ে আ.ক.ম রুহুল আমিন (উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বিপদে ফেলার জন্য চেক ডিজঅনার মামলাটি করেন।
মামলায় আরো জানায়, এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনির হোসেন চৌধুরী বেশ কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.ক.ম রুহুল আমিনকে হারিয়ে যাওয়া চেকটির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি চেকটিতে বসানো টাকাটি তার দাবি করলেও কীভাবে চেকটি পেয়েছেন তার কোনো সদুত্তোর না দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
সৃষ্ট ঘটনায় রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনির হোসেন চৌধুরী জানান, বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার দফারফা হওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মৌখিকভাবে আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহারের অঙ্গীকার দিলেও তিনি তা করেননি। উপরুন্ত আমিসহ কয়েকজন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে কেন মামলাটি প্রত্যাহার কেন করা হয়নি জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি আমাকে হুমকি ধমকি প্রদান করেন। এসময় তার নিকট আরো চেক রয়েছে দাবী করে আরো মামলা দায়ের করা হবে বলেও হুমকি দেয়।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আ.ক.ম রুহুল আমিন জানান, মনির চৌধুরীর কাছে আমার অনেক টাকা পাওনা রয়েছে। গত কয়েকমাস আগে বেশ কয়েকজন দলীয় নেতাকর্মীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সে আমাকে চেক প্রদান করলেও তার অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা ছিল না। আমি বারবার ব্যাংকে গিয়ে টাকা না থাকায় তা উত্তোলন করতে পারিনি। পরে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে আমি চেক ডিজঅনার মামলা করেছি। আমার পাওনা টাকা ফেরত না দিতে মনির হোসেন চৌধুরী এখন মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছে।