প্যারোলের আবেদন করলেই যে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হবে বিষয়টি সেরকম নয় বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
রবিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে তথ্যমন্ত্রীর পিতা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক জেলা পিপি মরহুম অ্যাডভোকেট আলহাজ নুরুচ্ছাফা তালুকদারের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা সেটাও দেখতে হবে। কারণ তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। তার শারীরিক সমস্যাগুলো বহু পুরোনো, সেই সমস্যাগুলোকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখিয়ে বিএনপি জনগণকে বিভ্রান্ত করার বহু চেষ্টা করেছে।
স্মরণসভা উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুলের সভাপতিত্বে অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মরহুমের সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট কামরুননাহার বেগম।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, খালেদা জিয়ার পরিবার কিংবা তার দল কোন পক্ষই তার (খালেদার) প্যারোলে মুক্তি চেয়ে আবেদন করেনি। তারা কথাটা বলছেন টেলিভিশনের সামনে ও গণমাধ্যমে।
তিনি বলেন, তাদের পক্ষ থেকে খালেদার মুক্তি চেয়ে প্যারোলের আবেদন করলেই কেবল বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সুযোগ তৈরি হবে, তার আগে নয়।
মন্ত্রী বলেন, প্যারোল হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থায় মুক্তি। বিভিন্ন বন্দীদের প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। এটি কোন ভাবেই আইনের মাধ্যমে মুক্তি নয়, এটি একটা প্রশাসনিক ব্যবস্থা। কারও নিকটাত্মীয় বা স্বজন মৃত্যুবরণ করলে বা অন্য কোনো বিশেষ কারণে নানা সময় এই ব্যবস্থায় বন্দীদের মুক্তি দেয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার দল বারবার বলছে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। গত ১১ বছরে বিএনপির পক্ষে কোন আন্দোলন করা সম্ভবপর হয়নি। খালেদা জিয়া কোন রাজবন্দী নন। তাকে মুক্ত করতে হলে আইনের মাধ্যমেই মুক্ত করতে হবে।