সরকারি চাকরি আইনের ৪২ ধারা কেন বেআইনি নয় জানতে চায় হাইকোর্ট

আদালতের আদেশ ও নির্দেশ উপেক্ষা করার সরকারি চাকরি আইনের ৪২ ধারা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।

রবিবার এ-সংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের বেঞ্চ এ রুল দেয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জাতীয় সংসদের স্পিকার, রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, লেজিসলেটিভ সচিব ও সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ গত ৯ ফেব্রম্নয়ারি এ রিট আবেদনটি করেন। এর আগে ১৬ জানুয়ারি তিনি আইনটির সংশোধন চেয়ে বিবাদীদের আইনি নোটিস পাঠান। এ নিয়ে যথাযথ কোনো উদ্যোগ না থাকায় উচ্চ আদালতে আবেদন করেন মনজিল মোরসেদ।

দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘আগের আইনে ফৌজদারি মামলায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দণ্ডিত হলেই তিনি বরখাস্ত হতেন। কিন্তু বর্তমান আইনে এক বছরের বেশি মেয়াদে দণ্ডিত হলে তিনি চাকরি থেকে বরখাস্ত হবেন। এছাড়া আদালত অবমাননার প্রচলিত আইন ও সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, আদালতের আদেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের সাজার বিধান রয়েছে। ফলে আদালতের রায় বাস্তবায়নে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাধ্য থাকতেন। কিন্তু বর্তমান আইনে আদালত অবমাননার সাজা হলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরিজীবীকে চাকরি হারাতে হবে না। এর ফলে আদালতের যে সহজাত ও প্রচলিত ক্ষমতা সেটির ওপর প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে আদালতের আদেশ ও নির্দেশ উপেক্ষা করার সুযোগ থাকবে। এ ধরনের বিধান থাকা উচ্চ আদালত ও সংবিধানের পরিপন্থী। এভাবে চলতে থাকলে দণ্ডপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষা দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৩ সালে আদালত অবমাননার আইন পরিবর্তন করে সরকারি কর্মকর্তাদের আদালতের কাছে জবাবদিহির সুযোগ কমানো হয়। ফলে সচিব পর্যায়ের কাউকে আদালতে ডাকা যাবে না, আদালতের আদেশ অমান্য করলে এবং কেউ অবসরপ্রাপ্ত হলে তার কোনো দায় থাকবে না–এমন বিধান করা হয়। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আবেদন করলে তা বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট।’