ভাতিজির বান্ধবীকে অপহরণের পর ধর্ষণ: পলাতক ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার

ভাতিজির বান্ধবীকে অপহরণের পর রাতভর ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা বনি আমিনকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইস্যু ক্লার্ক পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করা হয়। বুধবার দুপুরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. মুহসিন উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয় বনি আমিনকে। তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে ছিলেন। তিনি শহরের গণপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বনি আমিনকে দেওয়া বহিষ্কারের নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘‘যেহেতু বনি আমিন কর্তৃক সংঘটিত উক্ত নারী অপহরণ ধর্ষণের অপরাধ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেহেতু বনি আমিনের এই গুরুতর অপরাধ সংঘটনের সপক্ষে বলিষ্ঠ প্রাথমিক তথ্যাদি রয়েছে। তাই গুরুতর অসদাচরণের দায়ে বনি আমিনকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির ইস্যু ক্লার্ক পদ থেকে ‘সরকারি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮’ অনুযায়ী সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হল। তবে সাময়িকভাবে বরখাস্তকালে তিনি বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা পাবেন’’।

৯ ফেব্রুয়ারি ভাতিজির বান্ধবী একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে অপহরণ করে দুই সন্তানের জনক বনি আমিন। তরুণী কলেজ শেষে নিজ বাড়ি উজিরপুরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল।

তাকে প্রাইভেট করে তুলে অপহরণ করে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের একটি আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে রাতভর ধর্ষণ করে ছাত্রলীগ নেতা ও ববির তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী বনি আমিন।

অপহরণের ঘটনায় কলেজ ছাত্রীর মা বরিশাল মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার রাতে তরুণীকে ঝালকাঠিতে তার এক আত্মীয় বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে পালিয়ে বনি আমিন। ওই রাতেই এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঝালকাঠি থেকে তরুণীকে উদ্ধার করে।

পাশাপাশি এই ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। সম্পন্ন করা হয় কলেজ ছাত্রীর মেডিকেল পরীক্ষা। তবে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বনি আমিন। তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধনসহ পুলিশ কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া করা হয়।