কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের তালিকাভুক্ত দুই ‘ডাকাত’ নিহত হয়েছে। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্রসহ ডাকাতির সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ।  

বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লার আদর্শ উপজেলার গোমতী নদীর পালপাড়া ব্রিজ এলাকায় এই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।

এ সময় পুলিশের এসআই, এএসআই এবং ডিবির এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- মো. ইমন ও মো. জাহাঙ্গীর। পুলিশের দাবি, নিহত ওই দু’জন সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানাসহ বিভিন্ন থানায় ৭ থেকে ৮টির মতো খুন, ডাকাতি, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও অপহরণের মামলা রয়েছে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল হক জানান, পুলিশের তালিকাভুক্ত ডাকাত মো. ইমন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ভাটপাড়া এলাকার মৃত আক্তারুজ্জামানের ছেলে এবং মো. জাহাঙ্গীর একই উপজেলার আড়াইওরা এলাকার মৃত মিরু মিয়ার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের খুঁজছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

কুমিল্লা ডিবি পুলিশের উপপুলিশ পরিদর্শক পরিমল চন্দ্র দাস জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গোপন সংবাদে জানা যায়, পালপাড়া ব্রিজের পাশে সশস্ত্র একদল ডাকাত ডাকাতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি ও থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করতে গেলে সশস্ত্র ডাকাত দল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় ডিবি ও কোতোয়ালি থানার পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়।

পুলিশ ও ডাকাত দলের মধ্যে প্রায় ২৫ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। এতে পুলিশের তিন সদস্যসহ ডাকাত দলের সদস্য ইমন (৪০) ও জাহাঙ্গীর (২৮) আহত হয়।

আহত  পুলিশ ও ডাকাতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আহত দুই ডাকাত সদস্যকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল হতে একটি সচল এলজি, পাঁচ রাউন্ড গুলির খোসা, দুইটি রামদা, একটি ছুরি এবং একটি তালা কাটার কার্টার উদ্ধার করা হয়।

পলাতক ডাকাতদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, নিহত ডাকাত মো. ইমন ও মো. জাহাঙ্গীর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি মামলাসহ ৭/৮টি মামলা রয়েছে।

‘বন্দুকযুদ্ধে’ আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন কোতোয়ালি থানার ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহীন কাদির, এএসআই জহরুল এবং ডিবি পুলিশের কনস্টেবল মোল্লা আব্দুস সবুর।