করোনাভাইরাস আতঙ্কে চীন ফেরতদের হাসপাতালে রাখতে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে ইউক্রেনের পুলিশ। এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় দেশটির সেন্ট্রাল পোলটাভা এলাকার একটি গ্রাম।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, চীন ফেরত ৭০ জন নাগরিককে বৃহস্পতিবার ভোরে সেন্ট্রাল পোলটাভারে একটি হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
এ সময় পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেও চীন ফেরতদের ছয়টি বাস আটকে দেয় স্থানীয়রা। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করে তারা।
এমন পরিস্থিতিতে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয় পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, জনতার হামলায় ৯ জন পুলিশ সদস্য ও এক বেসামরিক লোক আহত হয়। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, চীন ফেরতদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হোক। তাদের মাধ্যমে ওই এলাকায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে যেতে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।
তবে কয়েক ঘণ্টা সংঘর্ষের পর চীনা ফেরতবাহী বাসগুলোকে কঠোর নিরাপত্তায় হাসপাতালে নিয়ে যেতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এদিকে ঘটনাস্থলে গিয়েছেন ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরসেন আভাকভ। তিনি জনতাকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এমন আচরণ আমাদের উৎকৃষ্ট চরিত্রের সঙ্গে যায় না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, আমরা সবাই মানুষ এবং আমরা সকলেই ইউক্রেনীয়।’
ইউক্রেনে যাতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ না ঘটে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।