একুশের প্রথম প্রহরে ইবির শহীদ মিনারে বাগ্‌বিতণ্ডা

একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতি থেকে সদ্য বেরিয়ে আসা একাংশ কর্মকর্তাদের নাম ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। বাগ্‌বিতণ্ডার পরেই শহীদ মিনারে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, একুশের প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপরেই আওয়ামীপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও কর্মকর্তা সমিতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ নির্বাচন কমিশন ও কর্মকর্তা সমিতির নতুন সংগঠন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। এই দুই সংগঠনের শ্রদ্ধা নিবেদন ও নাম আহ্বানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বাগ্‌বিতণ্ডা।

এ সময় নির্বাচিত কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সঞ্চালকের উপর চড়াও হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। দশ মিনিট ধরে চলে বাগ্‌বিতণ্ডা। এ সময় শহীদ মিনারে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এরপরেও শ্রদ্ধা নিবেদনের পুরো সময়জুড়েই শহীদ বেদিতে বিশৃঙ্খল পরিবেশ  লক্ষ্য করা যায়।

এ বিষয়ে কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি শামসুল ইসলাম জোহা বলেন, ‘অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন কর্মকর্তা সমিতির গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে নতুন সংগঠন করেছে। নির্বাচিত কর্মকর্তা সমিতি ব্যতিরেকে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নাম ঘোষণা করলে আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।’

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আরফিন বলেন, ‘এটা আসলে দুঃখজনক। আমরা বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্র ঘোষিত কমিটি থেকে প্রথমে ফুল দেই। পরে কেন্দ্র ঘোষিত সংগঠন না হয়েও বঙ্গবন্ধু পরিষদ নির্বাচন কমিশনের নাম ঘোষণা করলে আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ এটি। শহীদ মিনারে হট্টগোলের ঘটনাটি দুঃখজনক। আমি বিশৃঙ্খলা না করতে সবাইকে অনুরোধ করেছিলাম।’