শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় শ্রোতার আসন ছিল ফাঁকা। এর আগেও বিভিন্ন জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে আলোচক থাকলেও শ্রোতা উপস্থিতি ছিল না। তবে এসব দিবসের আলোচনা সভা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকে। এ জন্য প্রশাসনের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহল।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। হঠাৎ অনুষ্ঠান সূচি পরিবর্তন করে সকাল সাড়ে ৮টায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠানের অতিথিসহ উপস্থিতি সংখ্যা ছিল ২০ থেকে ২৫ জনের মতো। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী ছিল না।
২০১৮ সালেও শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সংখ্যা নিয়ে বেশ হতাশা প্রকাশ করেছিলেন শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। সে সময় তিনি বলেছিলেন, এত কমসংখ্যক শিক্ষার্থী দেখে আমি সত্যি হতাশ হয়েছি। তার এ বক্তব্যের পরে তৎকালীন প্রশাসনে সংশ্লিষ্টরা বলেছিলেন, এ সমস্যা আর হবে না।
তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। বিভিন্ন বিভাগের প্রধান থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী চেতনার শিক্ষক-কর্মকর্তাদেরও খুব একটা দেখা যায় না জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে।
এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার শহীদ দিবসের আলোচনা সভার শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অল্প কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মাঝামাঝি সময়ে অডিটোরিয়াম শূন্য দেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কয়েকজন স্কুল শিক্ষার্থীকে ডেকে আনেন।
এ ছাড়া ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে প্রগতিশীল কোনো ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীকে আলোচনা সভায় অংশ নিতে দেখা যায়নি। তবে আলোচনার শেষ পর্যায়ে গুটিকয়েক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।
জানা গেছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আঞ্চলিক সংগঠনের নেতা। প্রশাসনের এক শিক্ষকের অনুসারী হিসেবে তারা বেশ পরিচিত।
শাখা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. রুহুল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ববোধ পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রশাসন। শহীদ মিনারে আলোকসজ্জা করা হয়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীসহ ছাত্রসংগঠনের কোনো সদস্যকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। অথচ বিএনপিপন্থী শিক্ষকসহ অন্যদের ঠিকই দাওয়াত দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এ জন্য অনুষ্ঠান আমরা বয়কট করেছি।’
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনা সভায় তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে না পারায় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো আখতারুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি নিজেও অবাক হয়েছি। কেন শিক্ষার্থীরা আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেননি। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’
আলোচনা সভায় অধ্যাপক ড. মো আখতারুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।