ক্রিকেট আসলে স্ট্যাটিস্টিক্সের খেলাও। টেস্টে বাংলাদেশের খুব বাজে সময়ে ওই পরিসংখ্যান খুব বাজেভাবে ভেংচি কাটছে। গেল ১০ ইনিংসে দলের ইনিংস প্রতি রান ১৬৬ এর মতো। নেই একটাও সেঞ্চুরি। এই অবস্থায় অধিনায়ক মুমিনুল হক যে বড় মুখ করে বুক চিতিয়ে কথা দিয়ে দিলেন তা কথাটা রাখবেন কোন ব্যাটসম্যান?
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আজ একমাত্র টেস্ট শুরু ঢাকায়। তার আগে কাল প্রেস কনফারেন্সে মুমিনুলকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় এই দুর্দশার কথা। দলের রান তো ৩০০ শেষ ৫ ম্যাচে স্পর্শ করেনি, তিন অঙ্কের রানের দেখা পাননি কোনো ব্যাটসম্যান।
সময়টা বাজে যাচ্ছে জানিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় প্রথমে উচ্চারিত নবীন টেস্ট অধিনায়কের কণ্ঠে। মাত্র ৩ টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া এবং প্রতিটিতে ইনিংস ব্যবধানে হারা দলের অধিনায়ক হাসিমুখে শেষে বলেই দিলেন, ‘আমি কথাই দিলাম আমাদের দলের মধ্যে ইনশাল্লাহ বড় একটা ১০০ৃ১০০ না ২০০, ৩০০ৃতিনশই ধরি। চাইলে বড়ই থাকবে। বড় ইনিংস খেলতে হবে। যে কেউ একজন খেলবে ইনশাল্লাহ।’ মুমিনুলের কথা রাখবে কে?
মুমিনুল ওই প্রশ্নে এই জবাবে শেষ করার আগে বলছিলেন, ‘সত্যি বলতে গেলে আমার কাছে মনে হয় এতগুলো ইনিংসে একটা ১০০ না থাকা মানে হয়তো আপনি নিচের দিকেই আছেন। মানুষের মাঝে মাঝে একটু ব্যাডপ্যাচ যায়। দল হিসেবে আমরা হয়তো ব্যাডপ্যাচ পার করছি। আমরা এটা কাটিয়ে তোলার কাজ করছি।’
এখানে একটা তথ্য না দিলেই না। গত বছরের মার্চে তামিম ইকবালের হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করা সেঞ্চুরিটা দেশের শেষ শতক। মুমিনুলও ভুগছেন খুব। ৩০ টেস্টে ৮ সেঞ্চুরির মালিকের গড়ও এই সময়ে নেমে এসেছে ৪০ এর নিচে। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো। অথচ ব্র্যাডম্যানীয় গড়ের জন্য বাংলাদেশের ব্র্যাডম্যান নামও হয়ে গিয়েছিল এক সময়। সেই তার গত ১৪ ইনিংসে মোটে এক ফিফটি। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মুশফিকুর রহিমও ২০১৮ সালের শেষে অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরির পর আর তিন অঙ্ক দেখেননি। দলের বাকি ব্যাটসম্যানরা তো এখন অনভিজ্ঞতা ও নবীন হিসেবে পরিচিত। তাহলে মিরপুরে এই ৫ দিনের কোনো এক দিনে ওই বড় ইনিংসটা খেলে অধিনায়ক মুমিনুলের মুখ রক্ষা করবে কে?
২৮ বছরের মুমিনুল হঠাৎ গত নভেম্বরে ভারত সফরে টেস্ট অধিনায়ক হয়ে যান সাকিব আল হাসান আগের মাসে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলে। ইন্দোর ও কলকাতায় ইনিংস ব্যবধানে হারের দুই ম্যাচে নানা সিদ্ধান্তে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিলেন। কিছুটা নরম প্রকৃতির কক্সবাজারের ছোটখাটো ছেলেটা ভারত সফরে দল ও মিডিয়া সামলাতে বেগ পেয়েছিলেন।
‘প্রথম প্রথম আমি এসব জায়গায় (প্রেস) একটু স্বাচ্ছন্দ্যহীন ছিলাম। পাকিস্তানে অনেকটা সহজ হয়েছে। এখন অনেক ভালো। পরিবেশ বলেন বা অন্য কিছু আগের তুলনায় অনেক স্বাচ্ছন্দ্যের। এসব অনেক বেশি এনজয় করছি।’
মুমিনুল নেতৃত্ব পাওয়ার সময়টা ডমিঙ্গোর প্রায় শুরুরও। এই দক্ষিণ আফ্রিকান তারুণ্যে জোর দিচ্ছেন। ৪৯ টেস্টে ৪ সেঞ্চুরিতে ২৭৬৪ রান করা অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহকে পাচ্ছেন না এই একমাত্র টেস্টে। ধারাবাহিকতার অভাবে বাদ পড়েছেন দেশকে ৬ টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া বর্তমান টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। আর এখনকার ১৬ জনের দলের হাসান মাহমুদকে গতকাল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ১৫ জনের মধ্যে সাতজন ব্যাটসম্যান খেলবেন। ২জন পেসার হতে পারে। সঙ্গে ২ স্পিনার যদি ৩ স্পিনার না হয়। তামিম ইকবাল, নতুন সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল নিজে, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন ও লিটন দাস ব্যাটসম্যান। কোচ একাদশ জানালেন না। মেহেদী হাসান মিরাজ ফেরায় তাইজুল ইসলামের সঙ্গে তিনি জোট বাঁধবেন না ১৯ বছরের নাঈম হাসান থেকে যাবেন জানা যাবে আজ সকালে। দুই পেসার হলে তো আবু জায়েদ রাহী ও ইবাদত হোসেন। এক পেসার হলে অবশ্যই রাহী।
দলে সিনিয়র বলতে মুশফিক ও তামিম শুধু। যাদের ওপর বোর্ডের নির্দেশ মুমিনুলকে সহায়তা করার ও তরুণদের উজ্জীবিত রাখার। তবু মাহমুদউল্লাহর মতো অভিজ্ঞের অভাব বুঝি বোধ করছেন মুমিনুলÑ ‘একটা দলে সিনিয়র ক্রিকেটার না থাকা মানে দুশ্চিন্তা থাকে। ওই হিসেবে চিন্তা করলে আমার কাছে মনে হয় মুশফিক ভাই আছেন। অধিনায়ক হিসেবে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক আমার জন্য। আমার আত্মবিশ্বাস বাড়ছে।’