‘অশ্লীলতা’ রোধে শুটিংবাড়িতে রাতে পুলিশের তল্লাশি

নাটক সিনেমার নামে মাঝে মাঝেই অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করেন কেউ কেউ। এতে নাটক শিল্পের সঙ্গে জড়িতরাও বিব্রত হন। শুধু তাই নয়, শুটিংয়ের নামে মাঝে মাঝে পুবাইলের শুটিং বাড়িগুলোতে অসামাজিক কার্যকলাপও হয় বলে পুবাইলের স্থানীয় লোকজন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ আমলে নিয়ে এবার মাঠে নেমেছে পুলিশ। পুবাইলের শুটিং বাড়িগুলোর মালিক ও নাট্য পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।

একাধিক বাড়ির মালিক জানিয়েছেন এখন প্রতিরাতেই শুটিং বাড়িগুলোতে এসে তল্লাশি চালিয়ে যায় স্থানীয় পুলিশ। এ বিষয়ে ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরাও খবর পেয়েছি, পুলিশ ইদানীং বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। অশ্লীল ও অসামাজিক কার্যকলাপ রোধে পুলিশের এ অভিযানকে সাধুবাদ জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময়ই আমাদের শুটিংয়ের প্রয়োজনে রাতে পুবাইলেই থেকে যেতে হয়। সে ক্ষেত্রে আমরা পুবাইলেই থেকে যাই। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেউ কেউ ইউটিউব বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জন্য অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করেন, এটা ঠিক নয়। পুলিশ যদি এসব রোধে তল্লাশি চালায় তো ভালো খবর।’

একই সঙ্গে এই পরিচালক কিছুটা শঙ্কাও প্রকাশ করলেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশের তল্লাশি চালাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু তল্লাশির নামে যদি প্রমিনেন্ট পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীদের হেনস্তা করা হয় সেটা হবে খুবই খারাপ। আমরা চাই তল্লাশির নামে যেন কারও সম্মানহানি না করা হয়। এ বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলব। একই সঙ্গে আমাদের কোনো সদস্য যদি হেনস্তার শিকার হন, সে ক্ষেত্রে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে সহায়তা করা হবে।’

পরিচালক মাসুদ সেজান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এক সময় পুবাইলে নিয়মিত কাজ করতাম। এখন কিছুটা কম কাজ করি। উত্তরাতেই বেশির ভাগ শুটিং করি। তবে পুলিশ যদি শুটিং বাড়িগুলোতে তল্লাশি চালায় তাহলে এক হিসেবে ভালো-এতে করে আপত্তিকর ঘটনা ঘটানো থেকে শুটিং ইউনিটের সদস্যরা বিরত থাকবেন। আবার এটা কিছুটা শঙ্কারও, কারণ তল্লাশির নামে পুলিশ যে কাউকেই হেনস্তা করতে পারে। পুলিশের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে তল্লাশির নামে যাতে কাউকে হেনস্তা না করা হয়।’

এ বিষয়ে পুবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিভিন্ন শুটিং হাউসে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে, যেটা এলাকাবাসীর মাধ্যমে আমরা জেনেছি। সেগুলো যেন না ঘটে সে জন্য একটা রুটিন চেকের ব্যবস্থা করি আমরা। এখানে যারা সত্যিকারের শুটিংয়ের মানুষ, তারা কোনো হয়রানির শিকার হবে না।’