ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কাছে মারধরে শিকার হয়েছেন সাবেক দুই শিক্ষার্থীসহ তিনজন। এ সময় তাদের উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপরও চড়াও হন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নুরহাদ ফারহানা, রানা নাসের ও তার ছোটভাই বাপ্পী।
জানা গেছে, রানা নাসেরের ছোটভাই বাপ্পীকে চীনে পড়াশোনার জন্য পরিবার থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে চীনে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত নুরহাদ ফারহানার দারস্থ হন রানা। শুক্রবার রাতে রানা ও তার ভাইকে ফারহানা ফুলার রোডে আসতে বললে তারা সেখানে দেখা করতে আসেন। এ সময় ফুলার রোডে ফারহানা ও বাপ্পীর মধ্যে আলাপ হয়। তখন রানা তাদের ওই জায়গায় বসিয়ে অন্য কাজে যান। পরে ফারহানা ও বাপ্পীকে পেয়ে হেনস্তা ও মারধর করেন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে রানা নাসের ঘটনাস্থলে আসলে শিক্ষার্থীরা হলের ভেতরে পালিয়ে যান। দৌড়ে পালানোর সময় এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ঘটনাস্থলে পড়ে যাওয়ার কারণে ওই শিক্ষার্থী তার মোবাইল ফোন নিতে আসলে রানা তাকে ধরে ফেলেন। এ সময় উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।
এর কিছুপর ঘটনাস্থলে আসেন হল সাংসদের ভিপি কামাল। তিনি এসে জানতে চান, হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীকে কেন মারা হলো? পরে সবাইকে হলের ভেতরে নিয়ে যান ভিপি কামাল। হলের ভেতর নিয়ে রানা ও তার ভাইকে মারধর করা হয়। এ সময় ফারহানাকে হেনস্তা করা হয়। তাদের উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাদের ওপরও চড়াও হন কামালের অনুসারীরা। পরে প্রক্টরিয়াল টিম তাদের ঘটনাস্থল থেকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন।
থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী রানা নাসের বলেন, আমার ছোট ভাইকে চীনে পড়াশোনার জন্য পাঠাতে চাই। তাই আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড় আপুর দ্বারস্থ হই। আপুর সঙ্গে দেখা করতে এসে আমরা মারধরের শিকার হয়েছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বিষয়টি গুরত্বরের সহাকারে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।