বহুমাত্রায় করোনাভাইরাস

সন্দেহভাজন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত কিনা তা ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে শনাক্ত করা হচ্ছিল। কিন্তু চীনের বিজ্ঞানীরা এখন ২৭ দিনেও লক্ষণ মেলেনি যদিও ওই ব্যক্তি আক্রান্ত, এমন ঘটনা পাচ্ছেন। এক নারী ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল উহান থেকে ৪০০ মাইল ভ্রমণকালে তার থেকে পাঁচ স্বজন আক্রান্ত হয়েছেন। অথচ অনেক পরে তিনি শনাক্ত হয়েছেন। দিন গড়ানোর সঙ্গে বহুমাত্রিক চরিত্রে হাজির হচ্ছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বাড়তি সতর্কতায় বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯ ছড়ানোর পথ বন্ধে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, লেবানন ও ইরানের নতুন রোগী বিপরীত চিত্র দিয়ে বৈশ্বিকভাবে ভাইরাসটি দ্রুত সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

গতকাল শনিবার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন (এনএইচসি) জানিয়েছে, হুবেই প্রদেশে গত শুক্রবার ৩৯৭ জন নতুন আক্রান্ত হয়েছেন, যা আগের দিন ছিল ৮৮৯ জন। হুবেই প্রদেশের বাইরে চীনে নতুন ৩২ জন শনাক্ত হয়েছেন। চীনে কমলেও দক্ষিণ কোরিয়ায় একদিনে ২২৯ জনসহ আক্রান্ত দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৩ জনে। কর্র্তৃপক্ষ সহস্রাধিক মানুষের বিষয়ে সতর্ক। কারণ এরা সবাই একটি গির্জায় প্রার্থনায় যান। ফিরেই ফ্লুতে আক্রান্ত হন। ইরানে আরও ১০ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি অস্বস্তি বাড়িয়েছে। সবমিলে ২৮ আক্রান্তের ৫ জন মারা গেছে। রয়টার্স বলছে, চীনের বাইরে ২৯টি দেশ ও এলাকায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা গেছে এবং ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেডরস আধানম গ্যাব্রিয়াসিস টুইটে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং চীনে নাম ছাড়াই সব দেশকে ভাইরাস প্রতিরোধে দ্রুত বিনিয়োগের আহ্বান জানান। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য তিনি ৬৭৫ মিলিয়ন ডলার চান। আগের দিনই টেডরস বলেছিলেন, পরিস্থিতি অনুধাবন করে এখনই সিদ্ধান্তের সময়। সুযোগ কাজে না লাগাতে আমাদেরই কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। তিনি চীনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং অবাধ যাতায়াতকারী ১৩টি দেশকে প্রাধান্য দেন। এর মধ্যে ছয়টি দেশে ৩০ হাজার কিট পাঠানো হয়েছে। আরও ৬০ হাজার কিট ১৯টি দেশে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পাঠানো হবে।

ইতালির উত্তরাঞ্চলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১৭ জনের মধ্যে দুজন মারা গেছেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। জাপান গতকাল নতুন ১৪ রোগীর তথ্য দিয়েছে। এদের একজন শিক্ষক, যিনি কর্মরত অবস্থায় লক্ষণে ভুগেছেন। সংক্রমণ ঠেকাতে ইতিমধ্যে অর্থায়নসহ জাপানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। টোকিও অলিম্পিকের আসর বাতিল হয়েছে। তবে দি ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর গতকাল প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এশিয়া থেকে অর্থায়ন করা হচ্ছে না এমন অভিযোগ নাকচ করে দেন। শুক্রবার পর্যন্ত চীনে ৭৬ হাজার ২৮৮ জন আক্রান্ত ও ২ হাজার ৩৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। হুবেই প্রদেশে এদিন ১০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের ৯০ জনই উহানের। প্রাথমিক লক্ষণের পর ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রেখে সংক্রমণ নিশ্চিত করা হচ্ছিল। কিন্তু গতকাল হুবেই সরকার জানিয়েছে, বয়স্ক এক ব্যক্তির শরীরে ২৭ দিনেও ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এসব ঘটনা নিবীড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা চীনের বিজ্ঞানীরা এক প্রতিবেদনে বলেছেন, এক নারী উহান থেকে ৪০০ মাইল ভ্রমণ করেন। এ সময়ে পাঁচ স্বজন আক্রান্ত হন। অথচ তার শরীরে অনেক পরে ভাইরাস ধরা পড়ে।