ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডে ৯ বছরেও চালু হয়নি পদচারী সেতু

ব্যস্ত রাজধানীতে গাড়ির গতির ভিড়ে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা। যার বেশির ভাগই অসাবধানবশত রাস্তা পারাপারের কারণে।

ধানমন্ডির-মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ রোডের শংকর চৌরাস্তা মোড়ে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার নয় বছরেও কাজ না শেষ হওয়ায় রাস্তা পারাপারের সময় প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিটি কলেজ থেকে শুরু করে জিগাতলা, ধানমন্ডি ১৫, মোহাম্মদপুর পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশেই রয়েছে অনেক স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, শপিং মলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নামীদামি রেস্তোরাঁ। ফলে সারা দিনই ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি পাবলিক বাস, লেগুনা, রিকশা, রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলের ভিড় লেগেই থাকে। এ পরিস্থিতিতে যানবাহনের চাপে পথচারীদের পথ চলাই দায় হয়ে ওঠে, সেখানে রাস্তা পার হতে হলে পথচারীরা পড়েন ভোগান্তিতে।

সকাল আট টার দিকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনুবা আক্তারের সঙ্গে কথা হলে সে জানায়, এ রাস্তা দিয়ে আমাদের প্রতিদিনই চলাচল করতে হয়। পদচারী সেতু আছে তাও ব্যবহার করা যায় না। আগে আম্মু নিয়ে আসতেন। চাকরি করার কারণে প্রতিদিন আসতে পারেন না। এটাই আমাদের চলাচলের পথ। রাস্তা পার হওয়ার সময় ভয় করে।

ব্যাংক কর্মকর্তা সারওয়ার হোসেন বলেন, প্রতিদিন এখান থেকে রাস্তা পার হতে হয়। এখানে ক্রসিং নেই, সিগন্যাল, ফুটওভারব্রিজ, এমনকি জেব্রা ক্রসিংও নেই। এত দ্রুত গতিতে গাড়িগুলো যাতায়াত করে যে রাস্তা পার হওয়ার সময় বেগ পেতে হয়।  

শংকর মোড়ের পাশেই রয়েছে প্রায় চারটি হাসপাতাল ও স্কুল। সেখানে রাস্তা পার হওয়ার জন্য বৃদ্ধ বাবাকে সঙ্গে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় খোকন মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে। তিনি জানান, বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। সকাল বেলা সড়কে প্রচুর গাড়ি। পার হওয়ার কোন উপায় নেই । ফুটওভার ব্রিজ নেই, যেটা আছে তাও আবার ব্যবহার করা যায় না। গিয়ে ফিরে আসলাম।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাকির হোসেন স্বপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রায় নয় বছর এই সেতুটির কাজ বন্ধ হয়ে আছে। আমরা বরাবরই তাদের জানিয়ে আসছি। আমার জানা মতে কোন প্রকার জটিলতা নেই। মেয়র মহোদয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বলতে পারবেন কেন কাজ বন্ধ হয়ে আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১ এর নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ সচিব) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন জটিলতার দরুন কাজটি বন্ধ হয়ে আছে। আমরা ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি শিগগিরই বেশ কিছু কাজ শুরু হবে।

কাজ বন্ধ হয়ে থাকার কারণ জানতে চাইলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী সূত্র জানায়, ফান্ডের জটিলতায় কাজটি বন্ধ হয়ে আছে। এছাড়াও পদচারী সেতুর ওপর দিয়েই হাই ভোল্টের তার থাকায় কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে তার মাটির নিচে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব ঠিক থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই সিটি করপোরেশনের মেগা প্রকল্পের বাজেটের আওতায় পদচারী সেতুটির কাজ শুরু হবে।