আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের অন্যতম সহযোগী মাজহারুল ইসলাম ওরফে শাকিলকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তবে শাকিলের পরিবার অভিযোগ করেছেন গত বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাকে ধরে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম জানান, দীর্ঘদিন ধরে শাকিল দুবাই থেকে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল বলে অভিযোগ আছে। গত জানুয়ারি মাসে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তারপর থেকে তিনি নজরদারিতে ছিলেন।
লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম জানান, ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের কারণে আন্ডারওয়ার্ল্ডে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। নতুন করে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতেই শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের নির্দেশনা ও সহযোগিতায় শাকিল দেশে আসে বলে আমরা তথ্য পাই। সেই তথ্য পেয়ে তাকে ধরতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে দুবাই থেকে তিনি দেশে আসেন। মূলত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের নির্দেশেই তিনি দেশে ফেরেন।
শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ইন্টারপোলের মাধ্যমে জানতে পেরেছি জিসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে শাকিলের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।
র্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, শাকিল রোগী সেজে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে ভর্তি উদ্দেশ্য ছিল হাসপাতালের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সৃষ্টি করে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। এই জন্য তিনি বেশ কয়েকবার হাসপাতালের সিসিইউর সামনে ঘোরাফেরা করেন। যেখানে ধৃত যুবলীগের সাবেক নেতা সম্রাট চিকিৎসাধীন আছেন। কয়েক দিন ধরে তাকে হাসপাতালে দেখা যাচ্ছিল না।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের জুন মাসে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সম্পাদক রাজীব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার নাম চলে আসে। পরে তিনি চীন চলে যান। ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে বসবাস করেন ও কার্গো সার্ভিসে কাজ করেন। ২০১৮ সালে চীন থেকে দুবাই চলে আসেন। সেখানেই জিসানের সঙ্গে তার পরিচয় এবং সখ্যতা গড়ে উঠে।
এদিকে, শাকিলের পরিবারের অভিযোগ করেছেন, গত বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় বিএসএমএমইউ হাসপাতালের একটি কেবিন থেকে শাকিলকে ধরে নিয়ে যান র্যাব সদস্যরা। ৫ বছর ধরে দুবাই ছিল শাকিল। ১৫ দিন আগে সে দেশে আসে। হৃদ্রোগ নিয়ে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার দেখা শোনার জন্য শাওন নামে আরও একজন ছিলেন। শাওনকেও ওই সময় ধরে নিয়ে যায়।
শাকিলের চাচাতো ভাই ফাহিম মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, শাকিলের হার্টের সমস্যা রয়েছে এবং ব্লাড প্রেশারও বেশি। মাথা ঘুরে পড়ে গেলে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তাকে প্রথমে ধানমন্ডির একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরের দিন তাকে ভর্তি করা হয় বিএসএমএমইউতে। ওই দিন রাতে শাওন ও শাকিলকে কে বা কারা তুলে নিয়ে যায়। তাদের খোঁজ না পেয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ কোন সহায়তা করেনি। দুপুরে টেলিভিশনে দেখতে পাই, মোহাম্মদপুর থেকে র্যাব শাকিলকে অস্ত্রসহ আটক করেছে। তবে শাওনের কোনও খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রথমে ধারণা করেছিলাম, শাকিল দুবাই থাকতেন বলে হয়তো মুক্তিপণের জন্য কোনও চক্র তাকে অপহরণ করেছে। এর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও চেয়েছিলাম। কিন্তু পাওয়া যায়নি।