অ্যাগারের হ্যাটট্রিকে প্রোটিয়াদের রেকর্ড হার

অ্যাস্টন অ্যাগারের হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টিতে বছরব্যাপী জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। শুক্রবার জোহানেসবার্গে ৬ উইকেটে ১৯৬ রান তুলে প্রোটিয়াদের রেকর্ড ব্যবধানে হারের (১০৮) লজ্জা দিয়েছে তারা। ৮৯ রান টি-টোয়েন্টিতে প্রোটিয়াদের সর্বনিম্ন ইনিংস।

২০১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এই ফরম্যাটে অপরাজিত অ্যারন ফিঞ্চের দল জিতল টানা ৮ ম্যাচ। এতে পাকিস্তানকে টপকে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠে গেল অস্ট্রেলিয়া। সিরিজ শেষে পাকিস্তানের চেয়ে কত পয়েন্টে তারা এগিয়ে তা জানা যাবে।

অ্যাগার তার হ্যাটট্রিকের শুরুটা করেন দলে ফেরা ফ্যাফ ডু প্লেসিকে দিয়ে। ইনিংসের অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলে লং অফে তুলে মারতে গিয়ে কেন রিচার্ডসনের ক্যাচে পরিণত হন ডু প্লেসি। পরের বলে আন্দিলে ফেহলুকওয়েওকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন অ্যাগার। রিভিউ নিয়েও আউট ঠেকাতে পারেননি প্রোটিয়া অলরাউন্ডার। আর শেষ বলে ডেল স্টেইন অ্যাগারের ভাসানো বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে সিøপে ফিঞ্চের হাতে ধরা পড়েন। ততক্ষণে মাত্র ৪৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে জয় থেকে বহুদূরে দক্ষিণ অফ্রিকা। তাদের লজ্জা আরও বাড়ত যদি অ্যাগার ম্যাচে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক পেয়ে যেতেন। ইনিংসের ১২তম ওভারের শেষ বলে ১৬ রান করা অভিষিক্ত পিট ভ্যান ভিলিয়নকে বোল্ড করেন অ্যাগার। ১৪তম ওভারে বল করতে এসে প্রথম বলেই তুলে নেন লুঙ্গি এনগিডির উইকেট। এক ম্যাচে দুই হ্যাটট্রিকের ইতিহাস হাতছানি দিচ্ছে তাকে। কিন্তু শেষ ব্যাটসম্যান তাবরেজ শামসিকে করা ওভারের দ্বিতীয় বলটি অল্পের জন্য উইকেট মিস করে যায় তারা। পুরো ইনিংসে মাত্র তিন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে রান তোলেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ডু প্লেসির, ২৪।

ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে ফিল্ডিং ও বোলিং নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা ছিল প্রোটিয়াদের। প্রথম ওভারে ডেভিড ওয়ার্নারকে ফেরানো ছাড়া কোনো সাফল্য ছিল না তাদের। ৪২ রান করা ফিঞ্চ ও ৪৫ করা স্টিভেন স্মিথ দুজনই উইকেটে থাকা অবস্থায় ওভারপ্রতি ১০ রান করে নিয়ে দলকে ৮ ওভারে ৮৪ রান এনে দেন। পরের দিকে অ্যালেক্স ক্যারে ২৭ ও অ্যাগারের অপরাজিত ২০ রানে দুইশো ছোঁয়া সংগ্রহ পায় অস্ট্রেলিয়া।  

ব্রেট লি’র পর দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে টি২০-এ হ্যাটট্রিক করা অ্যাগার পরে বলেছেন ভারতের রবীন্দ্র জাদেজার মতো হতে চান তিনি, ‘জাদেজা আমার ফেভারিট ক্রিকেটার। ওর মতোই খেলতে চাই। ও একেবারে রকস্টার। জোরে বল মারতে পারে, দুর্দান্ত ফিল্ডার আর বলও ঘোরায়। মাঠে নামলে ওর আত্মবিশ্বাস ফুটে ওঠে। চেষ্টা করছি ওর মতো বল ঘোরাতে। যখন ব্যাট করে তখন পুরোদস্তুর পজিটিভ মানসিকতা নিয়ে নামে জাদেজা। ফিল্ডিংয়ের সময়ও সেই মানসিকতা ধরা পড়ে।’