প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই এবার ফেঁসে গেছেন আশুগঞ্জের যুবদল নেতা মো. ইউনুছ ভূইয়া (৪০)।
নিজের ‘নিখোঁজ নাটক’ সাজিয়ে আত্মগোপনে থাকার ২২ দিন পর পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ইউনূছ।
তিনি ওই ইউনিয়নের দগীরাসার গ্রামের মৃত আবদুল কাদির ভূইয়ার ছেলে। আশুগঞ্জ সদরের ফেরিঘাটে তার গাড়ি মেরামতের দোকান রয়েছে।
মূলত প্রতিপক্ষকে মামলা দিয়ে ঘায়েল করতেই ইউনূছ নিজের নিখোঁজ নাটক সাজিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান।
রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান তিনি। তবে প্রতিপক্ষ কারা সেটি জানতে পুলিশের তদন্ত চলছে বলে জানান এসপি আনিসুর রহমান।
এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আশুগঞ্জ উপজেলা সদরের গোলচত্বর এলাকা থেকে 'নিখোঁজ' হন যুবদল নেতা ইউনূছ। এ ঘটনায় ২ ফেব্রুয়ারি ইউনূছের সন্ধান চেয়ে আশুগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার স্ত্রী পারভীন আক্তার। পরবর্তীতে ১০ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত ৮/১০ জনকে আসামি করে থানায় অপহরণ মামলা দেন পারভীন।
এসপি আনিসুর রহমান জানান, অজ্ঞাত অপহরণকারীরা মুক্তিপণের জন্য ইউনূছকে অপহরণ করে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের মাধ্যমে টাকা দাবি ও গ্রহণ করেছে মর্মে থানায় মামলা দায়ের করেন তার স্ত্রী পারভীন।
মামলার তদন্ত চলাকালে গত শনিবার রাতে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে ইউনূছকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এসপি আরও বলেন, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্যই ইউনূছ তার নিখোঁজ নাটক সাজান। বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হওয়ার পর আমাদের তথ্য সরবরাহকারীর মাধ্যমে ইউনূছের সঙ্গে যোগাযোগ করি।
যেহেতু সে গাড়ি মেরামতকারী তাই আমাদের সোর্স নিজের গাড়ি সারানোর কথা বলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হই। সেই মোতাবেক অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।
নিখোঁজ নাটক সাজানোর ঘটনায় ইউনূছসহ তার সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তাদেরকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোজাম্মেল হোসেন রেজা প্রমুখ।