তিন মাসের মধ্যে বিটিআরসিকে ১০০০ কোটি টাকা দিতে গ্রামীণফোনকে নির্দেশ

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) তিন মাসের মধ্যে আরও ১০০০ হাজার কোটি টাকা পরিশোধে দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনকে নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ।

সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।

এর আগে রবিবার নিরীক্ষা আপত্তির প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১০০ কোটি টাকা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে পরিশোধ করে গ্রামীণফোন।

আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী এদিন বিকেলে বিটিআরসি কার্যালয়ে কমিশন চেয়ারম্যানের কাছে ১০০০ কোটি টাকার পে-অর্ডার তুলে দেন অপারেটরটির হেড অব রেগুলেটরি হোসেন সাদাত।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ সোমবারের মধ্যে বিটিআরসিকে ১০০০ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেয় গ্রামীণফোনকে। নির্দেশনা অনুযায়ী রবিবার টাকা পরিশোধ করবে জানিয়ে গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায় গ্রামীণফোন।

গত ১৯৯৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে প্রায় ১২ হাজার ৫৮০ কোটি (বিটিআরসির ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি ও এনবিআরের ৪ হাজার ৮৬ কোটি) টাকা পাওনা হিসেবে দাবি করে গ্রামীণফোন লিমিটেডকে গত বছরের ২ এপ্রিল চিঠি দেয় বিটিআরসি। রবি অজিয়াটার কাছে বকেয়া ৮৬৭ কোটি টাকা আদায়েও একই ধরনের চিঠি পাঠায় বিটিআরসি।

বকেয়া টাকা আদায় না হওয়ায় গত ৪ জুলাই গ্রামীণফোনের ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয় বিটিআরসি। পরবর্তী সময়ে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ২২ জুলাই বিভিন্ন ধরনের সেবার অনুমোদন ও অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া বন্ধ করে দেয় বিটিআরসি। এতেও বকেয়া আদায়ে অগ্রগতি না হওয়ায় গত বছরে ৫ সেপ্টেম্বর লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে দুই অপারেটরকে নোটিশ পাঠায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পরবর্তী সময়ে গ্রামীণফোনে প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হয়।

বিটিআরসি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তিতে রাজি না হওয়ায় গ্রামীণফোন গত বছর আদালতের দ্বারস্থ হয়। পরে অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগে গ্রামীণফোন ও বিটিআরসির কর্মকর্তাদের মধ্যে দুই দফা বৈঠক হলেও তাতে সফলতা আসেনি।

পাওনা দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে গ্রামীণফোন নিম্ন আদালতে একটি মামলা করেও পাওনা দাবির অর্থ আদায়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চায়। গত বছরের ২৮ আগস্ট ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এর বিরুদ্ধে গ্রামীণফোনের পক্ষে গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। গত ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট ওই অর্থ আদায়ের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দেন। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে বিটিআরসি আবেদন করে, যা চেম্বার বিচারপতির আদালত হয়ে আপিল বিভাগে শুনানির জন্য আসে।

শুনানি শেষে গত বছরের ২৪ নভেম্বর গ্রামীণফোনকে তিন মাসের মধ্যে আপাতত দুই হাজার কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। অন্যথায় গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির দাবি করা সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার ওপর হাইকোর্টের জারি করা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হয়ে যাবে বলেও সতর্ক করেন আদালত।

তবে আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ের আগেই গত ২৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগে আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানায় গ্রামীণফোন। পুনর্বিবেচনার আবেদনে আপাতত ১২ মাসের কিস্তিতে ৫৭৫ কোটি টাকা দেওয়ার আবেদন জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়া চলমান আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে আলোচনা চালু রাখতে বিটিআরসিকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয় গ্রামীণফোন। তবে বিটিআরসি সেই টাকা ফিরিয়ে দেয়।

এরপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানিতে দুই হাজার কোটি টাকা ছয় মাসে পরিশোধের প্রস্তাব দেন গ্রামীণফোনের আইনজীবী। তবে আপিল বিভাগ তাদের আবেদনে সাড়া না দিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এক হাজার কোটি টাকা বিটিআরসিকে পরিশোধের নির্দেশ দেন।