বিমসটেক গ্রিডলাইন হলে সস্তায় বিদ্যুৎ পাবে গ্রাহক: জ্বালানি উপদেষ্টা

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে আঞ্চলিক গ্রিডলাইন তৈরি করতে পারলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ আমদানি-রপ্তানি বাড়বে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর গ্রাহকরা সস্তায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

মঙ্গলবার ঢাকায় বিমসটেক সচিবালয়ে শুরু হওয়া বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের দুদিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। মূলত আঞ্চলিক গ্রিডলাইন তৈরির কর্মপন্থা খুঁজতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী দেশগুলোর একটি সংস্থা। এর সদস্যভুক্ত দেশ ৭টি। এগুলো হলো– বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান।

তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, আলোচনা হচ্ছে আমাদের গ্রিড কীভাবে কানেক্ট করা যায়। দুই-তিন হাজার কিলোমিটারের এই এলাকায় যদি একটি কানেকটিভিটি হয়, তাহলে সব দেশের সক্ষমতা বাড়বে। সক্ষমতা বাড়ার অর্থ হলো গ্রাহকের জন্য দাম কম হবে। এ অঞ্চলের দেশগুলোর বিদ্যুৎ গ্রিড পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হলে চাহিদা অনুযায়ী আমদানি-রপ্তানির দ্বার উন্মুক্ত হবে।

তিনি বলেন, নেপাল থেকে যদি আমরা জলবিদ্যুৎ আনি, বর্ষা-গ্রীষ্মের সময় নেপাল যখন বিদ্যুৎ দিতে পারবে, তখন আমাদের চাহিদা বেশি। আবার শীতে নেপালের উৎপাদন কম, শীতে ওদের প্রয়োজন বেশি হয়। কাজেই আমরা তখন ওখানে রপ্তানি করতে পারব। এভাবে যদি একে অন্যের পরিপূরক হতে পারি, তাহলে বিদ্যুৎ সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার ও লোড ফ্যাক্টর ইউটিলাইজেশনের পাশাপাশি আমাদের গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের দামও কমবে।

গ্রিডের আন্তঃসংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বিমসটেক মহাসচিব এম শহীদুল ইসলাম বলেন, এর ফলে বিভিন্ন দেশ তার প্রয়োজনে আমদানিও করতে পারে, রপ্তানিও করতে পারবে। তার মানে হচ্ছে, এক দেশ শুধুই রপ্তানি করবে অথবা শুধুই আমদানি করবে– এমন কথা থাকবে না। যার যখন সুবিধা সেই অনুযায়ী আমদানি-রপ্তানি হতে পারে।

বিমসটেক গ্রিড ইন্টারকানেকশন স্থাপনে ২০১৮ সালে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা তুলে ধরে মহাসচিব বলেন, তাতে তাদের শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত হয়। এর পরবর্তী ধাপ হলো– কারিগরি পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা করে এই চুক্তির ধারাগুলো বাস্তবায়ন করা।

তিনি জানান, ইতিমধ্যে ‘বিমসটেক গ্রিড ইন্টারকানেকশন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। সদস্য দেশগুলোর বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি শিগগিরই প্রথম বৈঠকটি করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম বৈঠকটি হলে তারা বুঝতে পারবেন এখানে কী কী করতে হবে।

বিমসটেক ও সাউথ এশিয়া রিজিওনাল ইনেশিয়েটিভ ফর এনার্জি ইনটিগ্রেশন (এসএআরআই/ইএ) যৌথভাবে ‘বিমসটেক অঞ্চলে জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। বিমসটেকের সাত সদস্য দেশ এবং অন্যান্য দেশের আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞরা দুদিনের সম্মেলনে চারটি কর্ম-অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নেবেন।