দিল্লি সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় আগুনে পুড়ে মারা গেলেন ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা আকবারি। উগ্রবাদীরা তার ঘরে আগুন লাগিয়ে দিলে ভেতরে আটকে পড়ে প্রাণ হারান তিনি।
ভারতের সংবাদমাধ্যম স্ক্রলের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে গোটা ঘটনাটি উঠে আসে।
দিল্লির খাজুরি খাস এলাকার পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা আকবারির ছেলে মোহাম্মদ সাঈদ সালমানি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে তিনি দুধ কিনতে বের হয়েছিলেন। সেসময় তার বড় ছেলে তাকে ফোন করে। সে জানায়, অন্তত ১০০ জনের একটি দল তাদের ঘর ঘিরে ফেলেছে। তাদের চারতলা ঘরে, দোকানপাটে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে উন্মত্ত জনতা।
দৌড়ে তিনি ঘরের দিকে গেলে প্রতিবেশীরা তাকে আটকে দেয়। সালমানি বলেন, ‘তারা (প্রতিবেশীরা) আমাকে বলে, সেদিকে যাওয়া খুব বিপজ্জনক, আমি মারা যেতে পারি। যা ঘটার ঘটে গেছে, এখানে অপেক্ষা কর।’
৪৮ বছর বয়সী এ পোশাক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমি তখন কয়েক ঘণ্টা ধরে নিস্তব্ধ হয়ে ছিলাম আর নিজের পরিবারের মৃত্যুর কথা ভাবছিলাম।’
তবে পরবর্তীতে দেখা যায়, তার পরিবারের অন্যান্যরা আগুন থেকে পালিয়ে বাঁচলেও রক্ষা পাননি তার মা আকবারি। তৃতীয় তলায় তিনি আটকে পড়েছিলেন। হামলাকারীদের আগুনে পুড়ে মারা যান তিনি।
তিনি জানান, ভবনের দুইতলা পর্যন্ত তার পোশাকের কারখানা ও দোকান ছিল। সেগুলো পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। লুট করা হয়েছে ৮ লাখ রুপি এবং ঘরের সব স্বর্ণালংকার।
সালমানি বলেন, ‘আমার আর কিছু নেই, আমি এখন পুরোপুরি শূন্য।’
প্রসঙ্গত, ভারতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে কয়েক দশকের মধ্যে নজিরবিহীন সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। টানা চতুর্থ দিনের সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে দুই শতাধিক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ‘হিন্দুয়োঁ কা হিন্দুস্তান’, ‘জয় শ্রীরাম’- এসব স্লোগান দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
বিবিসি বাংলা জানায়, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে দেখা যাচ্ছে। বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে বিক্ষোভ বন্ধে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রার আল্টিমেটামের কয়েক ঘণ্টা পর রবিবার রাজধানী দিল্লিতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা শুরু করে আইনটির সমর্থকরা।